সড়কে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে ছড়ানো দুর্গন্ধে পরিবেশ দূষিত হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন লক্ষ্মীপুর শহরের বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, নতুন নিয়োগ বাতিল ও চাকরির নিশ্চয়তার দাবিতে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সড়কে ময়লা ফেলে বিক্ষোভের ঘটনায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ আন্দোলনে পরিচ্ছন্নতা শাখার কনজারভেন্সি পরিদর্শক ফয়েজ আহম্মদের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে শহরের চকবাজারসহ বিভিন্ন সড়কে ময়লা-আবর্জনা ফেলে প্রতিবাদ জানান পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। পরে পৌর প্রশাসক সম্রাট খীসার হস্তক্ষেপে সড়ক থেকে আবর্জনা সরিয়ে নেন আন্দোলনকারীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌরসভার পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের বেতন পরিশোধের দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক ফয়েজ আহম্মদের মাধ্যমে শতাধিক কর্মীর বেতন দেওয়া হতো। তবে পৌরসভায় প্রকৃত কর্মীর সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সম্প্রতি একটি এনজিওকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের দায়িত্ব দেওয়ার পর কর্মীদের ব্যাংক হিসাব খুলে বেতন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ পরিবর্তনের পরই কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। তাদের দাবি, পরিদর্শক ফয়েজ আহম্মদের উসকানিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সড়কে ময়লা ফেলে আন্দোলনে নামেন।
আন্দোলনকারী কর্মীদের অভিযোগ, শহর পরিচ্ছন্ন রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেও তাঁরা যে বেতন পান, তা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। স্বল্প আয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি বয়সের কারণ দেখিয়ে কয়েকজন পুরোনো কর্মীকে ছাঁটাই এবং বাইরে থেকে তুলনামূলক বেশি বেতনে নতুন শ্রমিক নিয়োগের অভিযোগও তুলেছেন তারা। এতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা কর্মীদের মধ্যে চাকরি হারানোর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সড়কে ময়লা ফেলে প্রতিবাদের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সরকারি কর্মকর্তা মোরশেদ আলম, এনজিওকর্মী রিয়াদ হোসেন ও সরকারি কর্মকর্তা মো. শাহেদ বলেন, আবর্জনার দুর্গন্ধে বাজারের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল। এ ঘটনার পেছনে কারও ইন্ধন থাকলে তদন্ত করে তাঁকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে কনজারভেন্সি পরিদর্শক ফয়েজ আহম্মদ বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা সড়কে ময়লা ফেলে আন্দোলন করেছেন। এ নিয়ে পৌর প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পরে তাঁরা সড়কের ময়লা পরিষ্কার করে দিয়েছেন। দূরদূরান্ত থেকে পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা এসে এখানে কাজ করেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৌর কর্তৃপক্ষ তাঁদের ব্যাংক হিসাব খুলতে বলেছে। এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার প্রশাসক সম্রাট খীসা ও নির্বাহী কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।
সালমান ইমন/ টিআই