বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হচ্ছে শনিবার (১০ অক্টোবর) মহালয়ার মধ্য দিয়ে। এদিন ভোরে চণ্ডীপাঠ, বিশেষ পূজা ও পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের মাধ্যমে মহালয়া উদযাপন করা হবে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা।
মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার তিথি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন প্রয়াত পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তি কামনায় জল ও তিল নিবেদন করে তর্পণ করা হয়। একই সঙ্গে চণ্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হয়।
পুরাণ অনুযায়ী, মহালয়ার সঙ্গে দেবী দুর্গার মহিষাসুর বধের কাহিনি জড়িয়ে রয়েছে। মহিষাসুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ দেবতারা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের সম্মিলিত শক্তিতে মহামায়ারূপী দেবী দুর্গার সৃষ্টি করেন। দেবতাদের দেওয়া অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধ করেন বলে পুরাণে বর্ণিত হয়েছে।
মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে ভোরে বিশেষ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি চণ্ডীপাঠ ও পূজার আয়োজন করা হবে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুবাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধন জানান, অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া রমনা কালীমন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়, ঢাকাস্থ রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, স্বামীবাগের লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম ও মন্দির, রামসীতা মন্দির এবং জয়কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থানে মহালয়া উদযাপিত হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে আসবেন এবং নৌকায় চড়ে বিদায় নেবেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর সারা দেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি অনুদান ৪ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি তিন দিনে উন্নীত করেছে সরকার। ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটির সঙ্গে ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টানা পাঁচ দিনের ছুটি পাবেন।
দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্রতিমা স্থাপন, প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। উৎসব চলাকালে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে এ বছরের দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। দুর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এসএস