মার্কিন ডলারের দর কমা, সরকারি বন্ডের সুদের হার হ্রাস এবং জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াবে কি না, তা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৭৭ ডলার ৪৪ সেন্টে দাঁড়ায়। এর আগে বুধবার সোনার দাম গত দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। বৃহস্পতিবারও সোনার দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমায় তেলের দাম কমেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না ওয়াশিংটন। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা এগোচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এর ফলে তেলের সরবরাহ নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখনো সোনার বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ক্রিটিক্যাল মেটালসের প্রধান নির্বাহী টনি সেইজ বলেন, ভবিষ্যতে সুদের হার বাড়ানো হলে সোনার দাম আবারও চাপে পড়তে পারে। সামনে প্রকাশিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যের দিকে বিনিয়োগকারীরা নজর রাখবেন। এসব তথ্য থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক তথ্য প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল হলে বা সুদের হার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্যে নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেলে বন্ডের সুদের হার কমতে পারে। এতে সোনার দাম বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বৈঠকে নীতিগত সুদের হার দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সেন্ট লুইস ফেডের প্রেসিডেন্ট আলবার্তো মুসালেম বলেছেন, মূল্যস্ফীতিকে ২ শতাংশের লক্ষ্যে ফিরিয়ে আনতে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে চলতি মাসের বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ১৭ শতাংশ। অন্যদিকে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে বিনিয়োগকারীরা সোনা কেনেন। তবে সোনা থেকে সুদ পাওয়া যায় না বলে সুদের হার বাড়লে এর আকর্ষণ কমে যায়। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।