জেলখানা থেকে আদালতে আনার সময় অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে একই প্রিজন ভ্যানে আনার আবেদন জানিয়েছেন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। জীবননাশের আশঙ্কা থেকে এমন আবেদন জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এই আসামি।
অন্যদিকে, তিনি জীবননাশের আশঙ্কা প্রকাশ করায় নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে আদালতে সশরীরে হাজির না করে কারাগার থেকেই ভার্চ্যুয়ালি মামলার শুনানির প্রস্তাব দিয়েছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বিষয়টি আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।
জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, যখন ২৪ সালের পরে এই ট্রাইব্যুনাল শুরু হয়েছে, তখন থেকে কেরানীগঞ্জ থেকেই বন্দিদেরকে এখানে নিয়ে আসা হতো-এখনো হচ্ছে, সকলকে একই গাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে কোনো ফারাক করা হয় না, তফাৎ করা হয় না।
কিন্তু সেপ্টেম্বরের ১৬ তারিখ থেকে জিয়াউল আহসানকে একা এক গাড়িতে আনা হচ্ছে অথচ, অন্যান্য বন্দিদেরকে ঠিকই ওই কেরানীগঞ্জ থেকে একসাথে নিয়ে আসা হয় ।
একা নিয়ে আসাটাকে একটা গভীর ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে নাজনীন নাহার বলেন, তাকে (জিয়াউল আহসান) যেন একা এক গাড়িতে নিয়ে না আসা হয়, অন্যান্য বন্দিদের সাথে যেন তাকে নিয়ে আসা হয়, আমি সেই দরখাস্ত আদালতের কাছে দাখিল করেছি।
আদালত বলেছেন এটা বিবেচনা করবেন
প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বিষয়টি স্বিকার করে বলেন, ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটার শুনানির সময় জজ সাহেবের সাথে অনুমতি সাপেক্ষে জিয়াউল আহসান নিজেই কথা বলেছেন । তিনি ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন যে, 'আমি আশঙ্কা করছি যে আমাকে যখন জেলখানা থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়, তখন রাস্তায় কোনো না কোনো একটা ঘটনা কেউ ঘটিয়ে আমার উপরে দায় চাপাতে পারে।'
গাজি তামিম আরো বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি যে উনি যেহেতু আশঙ্কা করছেন যে আসা যাওয়ার পথে কোনো না কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে অথবা অন্য কেউ ঘটিয়ে উনার ওপর দায় চাপাতে পারে, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আমাদের আবেদন হলো যে ওনাকে ট্রাইব্যুনালে স্বশরীরে উপস্থাপন না করে জেলখানাতে রেখে অডিও-ভিজ্যুয়াল কনফারেন্সের মাধ্যমে উনি যেন ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। অর্থাৎ ভার্চ্যুয়ালি উনি যেন ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পারেন। ট্রাইব্যুনাল আমাদের উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন এবং আদেশের জন্য রেখে দিয়েছেন ।
টিআই