অনুমতি ছাড়া বিদেশে অবস্থান ও দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব বেগম হাবিবা শারমিনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।
বুধবার (৭ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, হাবিবা শারমিন ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬৫ দিনের বিনা বেতনে অসাধারণ (বহিঃবাংলাদেশ) ছুটির আবেদন করেন। তবে তার ওই আবেদন অনুমোদন করা হয়নি।
পরবর্তীতে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ ২০২৩ সালের ২৫ মে তাকে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি ওই নির্দেশ অমান্য করে কাজে যোগ দেননি। বরং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের কথা জানিয়ে ২০২৩ সালের ১০ জুন থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিনা বেতনে অসাধারণ (বহিঃবাংলাদেশ) ছুটির জন্য ই-মেইলে আবেদন করেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিনা অনুমতিতে দেশত্যাগ করে বিদেশে অবস্থান এবং ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’-এর ৩(খ) ও ৩(গ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু করা হয়।
কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো লিখিত জবাব দেননি। পরে তদন্ত কর্মকর্তা মো. আল আমিন সরকার ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে হাবিবা শারমিনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে পাঠানো হয়।
নোটিশ পাওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর হাবিবা শারমিন অসুস্থতার কারণে শিগগির দেশে ফিরে চাকরিতে যোগ দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে বিধি অনুযায়ী চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। তবে তার বিরুদ্ধে নেওয়া বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
পরে প্রস্তাবিত গুরুদণ্ডের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত চাওয়া হলে কমিশন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে। এরপর হাবিবা শারমিনকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন, সরকারি কর্ম কমিশনের মতামত ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনায় হাবিবা শারমিনের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’ ও ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী পলায়নের তারিখ ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে তাকে ‘চাকরি হতে বরখাস্ত’ গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এসএস