দেশের অন্যতম প্রাচীন বৈমানিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড জেনারেল এভিয়েশন লিমিটেডের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন উদ্যোক্তা, সমাজকর্মী ও নীতি বিশ্লেষক এমজিআর নাসির মজুমদার সিআইপি। একই সঙ্গে ১১ সদস্যের নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত এক্সট্রাঅর্ডিনারি জেনারেল মিটিং (ইজিএম) থেকে নতুন নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অফিসিয়াল চিঠিতে কমিটির সদস্যদের নাম ও পদবি প্রকাশ করা হয়।
নতুন কমিটিতে তিনজন ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইঞ্জিনিয়ার নাসিরউদ্দিন আহমেদ (অপারেশনস, একাডেমিকস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং), ক্যাপ্টেন আবু সাফা (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) এবং রাজী হায়দার রিজভী (এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ)।
ক্যাপ্টেন আবদুল্লাহ সেক্রেটারি জেনারেল এবং ক্যাপ্টেন জাকারিয়া জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন ক্যাপ্টেন সেলিমুর রহমান, ক্যাপ্টেন মীর কামার সিদ্দিক, ক্যাপ্টেন ইথার ফারিয়েল, ক্যাপ্টেন রফিকুল রহমান এবং ক্যাপ্টেন ফেদিয়া।
১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড জেনারেল এভিয়েশন লিমিটেডের ৭৮ বছরের ইতিহাস রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে ‘ইস্ট পাকিস্তান ফ্লাইং ক্লাব’ এবং পরে ‘বাংলাদেশ ফ্লাইং ক্লাব’ নামে পরিচিত ছিল। দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও বৈমানিক প্রশিক্ষণের ইতিহাসের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট নাসির মজুমদার সেঞ্চুরি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আবাসন, তৈরি পোশাক, কৃষি, পর্যটন ও আতিথেয়তাসহ বিভিন্ন খাতে সেঞ্চুরি গ্রুপের ব্যবসা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
ব্যবসায়িক খাতে অবদানের জন্য তিনি ২০২১ সালে কমার্শিয়ালি ইম্পর্ট্যান্ট পারসন (সিআইপি) মর্যাদা লাভ করেন। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়নে অবদানের জন্য ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বৃক্ষরোপণ পুরস্কারে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
নাসির মজুমদার ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)-এর সাবেক পরিচালক, গুলশান সোসাইটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন নেতৃত্বের অধীনে বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি বিমান চলাচল খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি আধুনিক প্রশিক্ষণ, জেনারেল এভিয়েশন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর পাইলট প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেবে বলে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নিরাপদ ও দক্ষ বিমান চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
এসএস