কুষ্টিয়ার কুমারখালী শহরে একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে শিশু, নারী ও পুরুষসহ অন্তত ৪২ জন আহত হয়েছেন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শহরের হলবাজার, আমতলা, ইন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহতদের কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতরা হাসপাতালে এলে তাঁদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি নতুন করে কেউ কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়ে হাসপাতালে এলে তাকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতদের স্বজনরা জানান, সন্ধ্যার দিকে শহরের বিভিন্ন সড়কে হঠাৎ একটি কুকুর পথচারীদের ধাওয়া করে কামড়াতে শুরু করে। কেউ বাড়ি ফিরছিলেন, আবার কেউ রাস্তা দিয়ে চলাচল করছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন এলাকা থেকে একের পর এক আহত ব্যক্তি হাসপাতালে আসতে থাকেন।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, কুকুরের কামড় ও আঁচড়ে আহতদের ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা দেওয়া হচ্ছে।
কুকুরের কামড়ে আহত রোকন বলেন, ‘হলবাজার এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ পেছন থেকে একটি কুকুর এসে হাঁটুতে কামড় দিয়ে দৌড়ে চলে যায়। পরে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ বলেন, ‘সন্ধ্যার পর হাসপাতালে এসে দেখি, বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুরের কামড়ে আহত অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে এসেছেন। দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে আরও মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন।’
কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাভিদ সারওয়ার বলেন, বিষয়টি জানার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে বলা হয়েছে। কুকুরটিকে শনাক্ত ও আটক করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় কুমারখালী শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি আক্রান্তদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।