নিজের গড়া শিল্পগ্রুপের বড় তিন কোম্পানির নেতৃত্ব থেকে বাদ পড়লেন বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালনা পর্ষদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়ার পর এবার গ্রুপের বাকি দুই বড় কোম্পানি বেক্সিমকো লিমিটেড (বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি) ও শাইনপুকুর সিরামিকসকের পর্ষদ থেকে বাদ পড়লেন তিনি।
এ দুই কোম্পনিতে চেয়ারম্যান হিসেবে আগের মত থাকছেন তার বড় ভাই সোহেল এফ রহমান (আহমেদ সোহাইল ফসিহুর)।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ তিন প্রতিষ্ঠানেই ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন সালমান রহমান।
বুধবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় সালমানকে বাদ দিয়ে নতুন পর্ষদের অনাপত্তি দেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে সভার সিদ্ধান্ত তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’’
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে সালমান রহমানকে বাদ দিয়ে বেক্সিমকো গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড, বেক্সিমকো ফার্মা ও শাইনপুকুরের পরিচালনা পষর্দ সাজানোর আবেদন করে গ্রুপটি।
এর প্রেক্ষিতে কমিশন সভায নতুন কমিটি পুনর্গঠনের অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
কমিশনের বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বেক্সিমকোর নতুন সাত সদস্যের পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। আগের পর্ষদ থেকে বাদ পড়েছেন উদ্যোক্তা পরিচালক এবি সিদ্দিকুর রহমান ও রিম এইচ শামসুদ্দোহা। স্বতন্ত্র পরিচালক থাকা শাহ মঞ্জুরুল হক ও মাসুদ একরামউল্লাহ খান বাদ পড়েছেন নতুন পর্ষদে।
সোহেল এফ রহমান ছাড়া পর্ষদে আছেন উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ওকে চৌধুরী, ইকবাল আহমেদ, আজমল কবির ও কামরুন নাহার আহমেদ।
স্বতন্ত্র দুই পরিচালক নিয়ম অনুযায়ী যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
অপরদিকে শাইনপুকুরের সাতজনের নতুন পর্ষদে সালমানকে বাদ দিয়ে নতুন পরিচালক যুক্ত হয়েছেন উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে আজমল কবির (বেক্সিমকো গ্রুপের আরেক কোম্পিানি বেক্সটেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক) ও কামরুন নাহার আহমেদ।
আগের মতই চেয়ারম্যান হিসেবে আছেন সোহেল রহমান। উদ্যোক্তাদের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচালক রয়েছেন ওকে চৌধুরী ও ইকবাল আহমেদ।
অপরদিকে আগের পর্ষদের একমাত্র স্বতন্ত্র পরিচালক ব্যারিস্টার ফাহিমুল হক বাদ পড়েছেন। নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক করা হয়েছে শাহ মনজুরুল হককে।
বাকি একজন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়ম অনুযায়ী যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।
বেক্সিমকো ফার্মাসহ এই তিনটি কোম্পানিই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি বিষয়ক বিনিয়োগ উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ী নেতা সালমান রহমানের হাতে গড়ে তোলা। সব কটিতেই তিনি ছিলেন ভাইস-চেয়ারম্যান।
বিএসইসি জানিয়েছে, ‘‘কমিশনের প্যানেলভুক্ত আইনজীবীর পত্র মোতাবেক উচ্চ আদালতের মৌখিক নিদেশনার বিষয়ে অবহিত হয়ে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থসহ সার্বিক বিষয় বিবেচনায় শাইন পুকুর সিরামিকসের সাত সদস্যর পরিচালক পর্দ গঠনে অনাপত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।’’
কোম্পানি আইন অনুযায়ী, পরিচালক নিয়োগ বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের(বিএসইসি) অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। সাধারণ সভা ডেকে সদস্যদের মাধ্যমে পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে।
তালিকাভুক্ত হওয়ায় পর্ষদ গঠনের পরে বিএসইসিকে অবহিত করতে হয় আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না সেটি জানাতে।
এসব পরিচালকের মধ্যে পাঁচ ভাগের এক ভাগ বা ন্যূনতম দুই জন স্বতন্ত্র
পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি, না তা দেখার দায়িত্ব কমিশনের।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেক্সিমকো যে প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তা বিবেচনায় সালমান রহমান পর্ষদ থেকে পদত্যাগে সম্মত হয়েছেন; যাতে তার কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা ও শেয়ারধারীদের কোনো ক্ষতি না হয়, সেই বিবেচনায় তিনি পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াতে রাজি হয়েছেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সালমান রহমান গ্রেপ্তার হন এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
টিআই