যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সিদ্ধান্তের আভাস পেতে সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে তাকিয়ে আছেন বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যেই বুধবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন হয়েছে।
বুধবার গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৫১ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৮ দশমিক ৩৪ ডলারে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ১৬৪ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়ায়।
একই সময়ে ডলারের সূচক শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের কাছে ডলারে নির্ধারিত স্বর্ণের দাম তুলনামূলক বেশি হয়ে ওঠে।
নাগাডটকমের বাজার বিশ্লেষক ফ্র্যাঙ্ক ওয়ালবাম মনে করেন, স্বর্ণের দাম আপাতত তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে সামান্য নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
তার মতে, ফেডের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে মুদ্রানীতি এবং ভবিষ্যতে সুদের হার আরও বাড়ানোর বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কতটা সমর্থন রয়েছে, তার আভাস পাওয়া যাবে। এর ফলে সামনে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের হিসাবও বদলে যেতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের আয়, ডলার কিংবা তেলের দামে পরিবর্তন এলে তার প্রভাবও স্বর্ণের বাজারে আরও জোরালো হতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
ফেড কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্ক অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডেলি বলেছেন, মূল্যস্ফীতি বাড়ানোর কারণগুলো কমছে নাকি স্থায়ী হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে সুদের হার আরও বাড়ানোর প্রয়োজন আছে কি না।
অন্যদিকে, কানসাস সিটি ফেডের প্রেসিডেন্ট জেফ স্মিড বলেছেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে সুদের হার আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তবে সাম্প্রতিক দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা আগের তুলনায় কমেছে।
সাধারণত সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা নিয়মিত আয় দেয় এমন সম্পদের দিকে বেশি ঝোঁকেন। ফলে কোনো আয় না দেওয়া স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দাম নিয়ে বাজারে আশাবাদ রয়েছে। ইতালির সোরেন্টোতে অনুষ্ঠিত লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা আগামী ১২ মাসে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৩ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন।
এদিকে রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি পূরণ এবং সাত মাস ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ‘অর্থবহ’ মাত্রায় কমাতে হবে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬০ দশমিক ৭৯ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯৭ দশমিক ৪৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬০ দশমিক ২৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স