ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
নবাবগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ, তরুণ উদ্যোক্তা তাওহিদের সাফল্য
✎ অবজারভার সংবাদদাতা
⏲ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ পিএম
X
Advertisement

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে সাড়া ফেলেছেন তরুণ উদ্যোক্তা তাওহিদুল ইসলাম তাওহিদ। মৌসুমের বাইরেও তাঁর বাগানে বর্তমানে থোকায় থোকায় ঝুলছে বিভিন্ন জাতের রসালো আঙুর। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন তাঁর বাগানে।

উপজেলার নলেয়া গ্রামের মোহাম্মাদ আলীর ছেলে তরুণ উদ্যোক্তা তাওহিদুল ইসলাম তাওহিদ মাত্র ১০ শতক জমিতে বিভিন্ন জাতের ৮৫টি আঙুরগাছ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেন। তাঁর বাগানে প্রায় ১৫ প্রজাতির আঙুরগাছ রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই গাছগুলোতে ফলন আসতে শুরু করে। বর্তমানে সবুজ, খয়েরি ও মেরুন রঙের আঙুরে ভরে উঠেছে তাঁর বাগান।

তাওহিদুল ইসলাম তাওহিদ বলেন, “ছোটবেলা থেকেই কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি নতুন কিছু করার আগ্রহ থেকেই আঙুর চাষের চিন্তা করি। এলাকায় আঙুর চাষের প্রচলন না থাকায় শুরুতে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে কোনো বাধাই আমাকে দমাতে পারেনি। ইউটিউবের বিভিন্ন ভিডিও দেখে আধুনিক পদ্ধতিতে আঙুর চাষ সম্পর্কে ধারণা নিই। গাছের পরিচর্যা, মাচা তৈরি, ডাল ছাঁটাই, সার প্রয়োগ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের কৌশল রপ্ত করে নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ শুরু করি এবং সফলতা পাই। এখন আমার বাগানে থোকায় থোকায় সুস্বাদু আঙুর ঝুলছে। প্রথম উদ্যোগে সফলতা পাওয়ায় আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষের পরিকল্পনা করছি। ইতোমধ্যে প্রায় চার বিঘা জমিতে আঙুরের বাগান করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। নবাবগঞ্জে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। শুরুতে অনেকে বলেছিলেন, এখানে আঙুর চাষ সম্ভব নয়। কিন্তু চেষ্টা ও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে আমি সফল হয়েছি।”

মোগরপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক মোখলেছার রহমান বলেন, “তাওহিদ একজন তরুণ উদ্যোক্তা ও আমার ছাত্র। তাঁর আঙুরবাগানে গিয়ে আমি নিজে আঙুর খেয়েছি। সত্যিই তাঁর বাগানের আঙুর অত্যন্ত সুস্বাদু এবং ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হলে ভবিষ্যতে তিনি আরও ভালো উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠবেন এবং দেশের কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে আমি মনে করি।”

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস বলেন, “তাওহিদুল ইসলামের উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি প্রচলিত কৃষির বাইরে নতুন কিছু করার চেষ্টা করেছেন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুর চাষে সফলতা পেয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা তাঁকে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে আসছি। তাঁর এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্যান্য কৃষকও আঙুর চাষে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করছি।”

আধুনিক পদ্ধতিতে আঙুর চাষের পরিধি বাড়ানো গেলে নবাবগঞ্জে বাণিজ্যিকভাবে এ ফসলের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে। কৃষকদের আগ্রহ ও উদ্যোগ থাকলে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

এসএ/আরএন
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement