যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণমাধ্যম ও যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক ইব্রাহিম আল-হাশেমি মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনির দোহা সফর নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে যোগাযোগ ও সফর অব্যাহত রয়েছে।
আল-হাশেমি বলেন, ‘ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে যোগাযোগ ও সফর অব্যাহত রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে কাতারের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা ‘চলমান রয়েছে এবং কখনো বন্ধ হয়নি।’
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই প্রচেষ্টার লক্ষ্য হলো এমন অগ্রগতি অর্জন করা, যা ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি তৈরি করবে এবং উভয় পক্ষের উদ্বেগের বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে।
আল-হাশেমি বলেন, ‘আলোচনা চলছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে এবং কাতার দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, সমাধানে পৌঁছাতে হলে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে এবং এমন একটি আলোচনাভিত্তিক সমাধান খুঁজে বের করতে হবে, যেখানে সব পক্ষের উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া হবে।
কাতার ও পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা করছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে জুনে একটি প্রাথমিক চুক্তি হলেও তা সংঘাত পুরোপুরি থামাতে পারেনি।
ইরানি পাইলটদের বিষয়
ইরানি পাইলটদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে আল-হাশেমি বলেন, কাতার ‘শুরু থেকেই স্পষ্ট করে এসেছে যে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে’ এবং ইরানকে সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করতে ইরানের প্রতিনিধিদল কাতার সফর করলে দোহা তা স্বাগত জানাবে।
ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ মঙ্গলবার জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইস্কান্দার মোমেনি আলোচনার জন্য দোহা সফর করছেন।
মোমেনি জানান, পাইলটদের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে কাজ চালিয়ে যেতে আরও একটি কারিগরি প্রতিনিধিদল কাতারে পাঠানো হবে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, বৈঠকটি ছিল “ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক” এবং এটি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ইরানের জেনারেল স্টাফ ১৫ আগস্ট দাবি করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের সময় বিধ্বস্ত হওয়া দুটি যুদ্ধবিমানের চারজন ইরানি পাইলটের মধ্যে তিনজনকে কাতার আটক করে রেখেছে এবং তারা ছয় মাস ধরে কাতারে রয়েছেন। তবে দোহা এই দাবি অস্বীকার করেছে।
কাতার ২ মার্চ জানিয়েছিল, ইরান থেকে আসা দুটি Su-24 যুদ্ধবিমান তারা ভূপাতিত করেছে। তেহরানের দাবি ছিল, কাতারে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালানোর সময় তাদের যুদ্ধবিমানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
পরে ইরান জানায়, মাজিদ কাজেমির মরদেহ ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং তাকে দাফন করা হয়েছে। তবে ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, অপর তিন পাইলটের ভাগ্য তখনও অনিশ্চিত ছিল।
মক্কা প্রতিরক্ষা জোট
আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আল-হাশেমি বলেন, কাতার ওই অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করে। এর মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মক্কা প্রতিরক্ষা জোটও রয়েছে।
তিনি বলেন, এই জোট আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করছে এবং দেশগুলোর সক্ষমতা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
আল-হাশেমি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখে—এমন যেকোনো উদ্যোগকে কাতার সমর্থন করে। তবে ‘কাতার মক্কা জোটে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে কথা বলার এখনো সময় আসেনি।’
সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটির নেওয়া পদক্ষেপের প্রতিও দোহার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
আল-হাশেমি বলেন, ‘হুথি গোষ্ঠীর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ—সৌদি আরব, ইসলামি পবিত্র স্থান এবং বেসামরিক স্থাপনায় হামলা—আমরা নিন্দা করি। সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় দেশটি যে সব পদক্ষেপ নেয়, আমরা সেগুলোর প্রতি সমর্থন জানাই।’
তিনি আরও জানান, ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দোহা সফর সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য পরে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রকাশ করবে।
সূত্র: আনাদোলু