মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য দুই দফা প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগের পরও বেঁচে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইক। ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ছয় দিন পর তিনি এখন জ্ঞান ফিরে কথা বলছেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তাকে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটাল-এর দুটি ডোজ দেওয়া হলেও তার মৃত্যু হয়নি। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমদিকে তিনি অচেতন অবস্থায় ভেন্টিলেটরে ছিলেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, পাইক এখন সচেতন ও কথা বলতে পারছেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার পূর্বাভাস এখনো স্পষ্ট নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তার হাতে গুরুতর ক্ষতি হয়েছে বলেও আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে প্রথম কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হতো।
ঘটনাটি টেনেসির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। চলতি বছর অঙ্গরাজ্যটিতে এটি দ্বিতীয় ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা। ঘটনার পর টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক স্ট্রাডা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
পাইককে আবার মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নিয়েও আইনি প্রশ্ন উঠেছে। তার আইনজীবীরা টেনেসির গভর্নরের কাছে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্যর্থ এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পরিবর্তে অন্য পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়টিও আইনপ্রণেতাদের আলোচনায় এসেছে।