আজ ৭ অক্টোবর, বিশ্ব তুলা দিবস। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক আঁশ তুলার অর্থনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর এ দিবসটি পালিত হয়। তুলা চাষ থেকে শুরু করে সুতা, কাপড় ও পোশাক উৎপাদন—বিস্তৃত এই উৎপাদনব্যবস্থার সঙ্গে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত।
তুলা শুধু পোশাক তৈরির প্রধান কাঁচামালই নয়, বহু দেশের কৃষক, শ্রমিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার আয়ের অন্যতম উৎস। বিশেষ করে উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনীতিতে তুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তুলা রপ্তানি থেকে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রাও অনেক দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২১ সালে প্রতি বছর ৭ অক্টোবর বিশ্ব তুলা দিবস পালনের স্বীকৃতি দেয়। এর উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী তুলা খাতের গুরুত্ব তুলে ধরা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও দারিদ্র্য বিমোচনে এর ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো।
খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ টন তুলা উৎপাদিত হয়েছে এবং ৯০ লাখ টনের বেশি তুলা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এসেছে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষক তুলা চাষের সঙ্গে যুক্ত। তুলার উৎপাদন ও সংশ্লিষ্ট উৎপাদনব্যবস্থায় আনুমানিক ১২ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে।
তবে তুলা খাত নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, কৃত্রিম তন্তুর সঙ্গে প্রতিযোগিতা, বাজারের পরিবর্তন এবং ভোক্তাদের চাহিদার পরিবর্তন এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে টেকসই উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা ও মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে তুলা খাতকে আরও দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এবারের বিশ্ব তুলা দিবসের প্রতিপাদ্য—‘কল্যাণের জন্য তুলা: বাণিজ্য, রূপান্তর ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সমৃদ্ধি গড়া’।
বিশ্ব তুলা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে আন্তর্জাতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, তাসখন্দের হায়াত রিজেন্সিতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, তুলা ও বস্ত্র খাতের ব্যবসায়ী, কৃষক, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিচ্ছেন।
আয়োজনে তুলা খাতের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে শক্তিশালী করা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বাণিজ্য, উদ্ভাবন, মূল্য সংযোজন, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, তুলা উৎপাদন ও উৎপাদনব্যবস্থায় নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ রয়েছে। বিশ্বব্যাপী তুলা উৎপাদনের শ্রমশক্তির আনুমানিক ৪৩ শতাংশ নারী। বিশেষ করে আফ্রিকা ও এশিয়ায় তুলা চাষের বিভিন্ন কাজে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিশ্ব তুলা দিবস তাই শুধু একটি কৃষিপণ্যের দিবস নয়; বরং কৃষক, শ্রমিক, শিল্প, বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত একটি বৈশ্বিক খাতের গুরুত্ব তুলে ধরার দিন। এবারের আয়োজনের মাধ্যমে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের সমন্বয়ে তুলা খাতকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এফএস