ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
ক্ষমতার সন্ধানে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার
✎ এ ইউ দৌলা
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০২ পিএম আপডেট: ০৬.১০.২০২৬ ১:২৯ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি


ফারাও ছিলেন প্রাচীন মিশরের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ফ্রান্সের ক্ষমতা নিয়েছিলেন। বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন, তারপর সিংহাসনকে কেন্দ্র করে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাইয়ের লড়াই এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষমতার নিষ্ঠুর হাতবদল। আধুনিক যুগে নির্বাচিত নেতা ক্ষমতা লাভ করেন, আবার কোনো শাসক আকস্মিকভাবে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। একজন জেনারেল যেদিন সকালে ইউনিফর্ম জমা দিয়ে বেসামরিক হয়ে যান, সেদিন বিকেল থেকে ইউনিট অধিনায়কগণ তাঁর আদেশে আর যুদ্ধ করেন না। ক্ষমতা আসে, ক্ষমতা যায়, ক্ষমতার পোশাক আর চেয়ার বদল হয়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ক্ষমতা আসলে কী, ক্ষমতা আসলে কোথায় থাকে? সেটা কি একজন মানুষের শরীরে, একটি পদে, একটি সিংহাসনে, নাকি অন্য কোথাও? গতকাল যে ব্যক্তি সাধারণ ছিলেন, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর কীভাবে তিনি কোটি মানুষের ওপর ক্ষমতা অর্জন করেন? আবার, যিনি এক ঘণ্টা আগেও ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন, একটি পদত্যাগপত্র, একটি বিদ্রোহ, একটি নির্বাচনী ফল কিংবা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের একটি সিদ্ধান্তের পর কীভাবে তাঁর ক্ষমতা শূন্য হয়ে যায়?

এমন প্রশ্নের উত্তরে জার্মান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ম্যাক্স ওয়েবার বললেন, ক্ষমতা হলো এমন শক্তি, যার মাধ্যমে বাধা সত্ত্বেও নিজের ইচ্ছা বাস্তবায়ন করা যায়। ব্রিটিশ দার্শনিক থমাস হবস রাষ্ট্রক্ষমতা বিষয়ে বললেন, ভয়, অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলা থেকে সমাজকে রক্ষা করার জন্য মানুষ নিজেদের কিছু ব্যক্তিগত স্বাধীনতা রাষ্ট্র নামক একটি কর্তৃপক্ষের হাতে অর্পণ করে, যাতে সেই কর্তৃপক্ষ সকলের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। আরেক ব্রিটিশ দার্শনিক জন লক রাষ্ট্রক্ষমতার এই ব্যাখ্যায় একটি মৌলিক পরিবর্তন আনলেন; তিনি বললেন, রাষ্ট্র মানুষের ওপর স্বতঃসিদ্ধ কোনো অধিকার নিয়ে জন্মায় না, কারণ মানুষ স্বাধীন ও সমান; রাষ্ট্র কেবল মানুষের সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয়।

জেনেভীয় দার্শনিক জ্যাঁ জাক রুশো এই আলোচনাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে জনগণকে রাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের কেন্দ্রে স্থাপন করলেন। সামাজিক চুক্তির (Social Contract) ধারণায় তিনি বললেন, বৈধ রাজনৈতিক কর্তৃত্বের ভিত্তি হলো জনগণের সাধারণ ইচ্ছা। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কেবল জনগণের সম্মিলিত রাজনৈতিক ইচ্ছার সঙ্গে সম্পর্কিত হবে। অবশ্য কার্ল মার্ক্স ক্ষমতার বিশ্লেষণে বলেছিলেন, সম্পত্তি ও পুঁজির ওপর নিয়ন্ত্রণই ক্ষমতার মূল উৎস।

তবে ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকো ক্ষমতার উৎস নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন, তা সত্যিই অসাধারণ। তিনি বললেন, ক্ষমতা কেবল রাজা, রাষ্ট্র কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে জমা থাকা বস্তু নয়। পরিবার, বিদ্যালয়, কারাগার, হাসপাতাল, কর্মক্ষেত্র, প্রশাসন, ভাষা এবং দৈনন্দিন সামাজিক সম্পর্কের মধ্যেও ক্ষমতার উৎস রয়েছে। তিনি বললেন, জ্ঞানের মাঝেই থাকে ক্ষমতা।

তবে এত সব দর্শনতত্ত্ব, সংজ্ঞা ও ব্যাখ্যার মধ্যে একটু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্ষমতা আসলে আনুগত্যের নিয়ন্ত্রণ। একজন রাজা তখনই কার্যকরভাবে রাজা, যখন তাঁর নির্দেশ বাস্তবায়ন করার মতো প্রশাসনিক ও সামরিক আনুগত্যের নেটওয়ার্ক রয়েছে। একজন জেনারেল তখনই কার্যকরভাবে কমান্ডার, যখন তাঁর অধীনস্থ কর্মকর্তারা তাঁর অনুগত। একজন কর্মকর্তা তখনই ক্ষমতাবান, যখন প্রতিষ্ঠানের মানুষ তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করে। জনগণের আনুগত্যই রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস, মানুষের আনুগত্যই নেতার শক্তি, সন্তানদের আনুগত্যই বাবার ক্ষমতা। 

কেউ হয়তো বলবেন, "আমি কারও আনুগত্য চাই না, শুধু টাকা হলেই আমি ক্ষমতাবান হতে পারতাম।" তাহলে ধরুন, আপনার অনেক টাকা আছে, কিন্তু চারপাশের কেউই আপনার সেই টাকাকে বৈধ টাকা বলে মানেন না; ফলে কিছু মানুষ এসে আপনার টাকা তুলে নিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে দিল। অর্থাৎ, টাকা আপনার ছিল, কিন্তু কেউ আপনার অনুগত ছিল না। আপনি হয়তো বলবেন, "তাহলে আমি ব্যক্তিগত অস্ত্র সাথে রাখব আর নিজের টাকার পাহারা দেব।" এমন হলেও যদি আপনার বন্ধু কিংবা পরিবারের কেউই আপনাকে সাহায্য না করেন, অর্থাৎ আপনার অনুগত না থাকেন, তবে একা একা আপনি অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করেও বেশি দিন নিরাপদ থাকতে পারবেন না। আপনি হয়তো বলবেন, "আমি টাকা দিয়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলব।" এখানেও কিন্তু টাকা দিয়ে আপনি কিছু মানুষকে চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আনুগত্যই কিনতে চাইছেন। আপনি যা কিছুই পরিকল্পনা করুন না কেন, মানুষের আনুগত্য ছাড়া আপনি ক্ষমতার মালিক হতে পারবেন না।

তবে অবশ্যই এই আনুগত্য শুধু ভয় থেকে সৃষ্টি হয় না। কেউ ভয় পেয়ে নির্দেশ মানতে পারে, লাভের আশায় নির্দেশ মানতে পারে, দায়িত্ববোধ থেকে মানতে পারে, আবার বিশ্বাস, সম্মান ও বৈধতার কারণেও মানতে পারে। তাই ক্ষমতার কাঠামো যত বড় হয়, তাকে টিকিয়ে রাখার কৌশলও তত জটিল হয়।

ক্ষমতাকে কল্পনা করা যেতে পারে আনুগত্যের পিরামিড হিসেবে। একটি রাষ্ট্রে শাসক ক্ষমতার পিরামিডের চূড়ায় অবস্থান করেন, কিন্তু সেই পিরামিডের নিচের প্রতিটি স্তর অত্যন্ত মূল্যবান; আসলে শাসকের ক্ষমতা টিকে থাকে সেই আনুগত্যের কাঠামোর প্রতিটি স্তর কীভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত রয়েছে তার ওপর। কোন বন্ডিং এজেন্ট আনুগত্যের সেই পিরামিডের প্রতিটি ছোট খণ্ডকে একে অপরের সাথে এবং নিচের স্তরকে ওপরের স্তরের সাথে যুক্ত করে রেখেছে, তারই ওপর নির্ভর করে ক্ষমতার প্রকৃত শক্তি। তাই ক্ষমতার কল্পিত পিরামিডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোন শক্তি বা বন্ডিং এজেন্ট আনুগত্যের বিভিন্ন স্তরকে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত করে রাখে?

জগতে আনুগত্য অর্জনের প্রধান দুটি রূপ দেখা যায়। একটি হলো কঠোর নিয়ন্ত্রণের কৌশল বা হার্ড পাওয়ার (Hard Power), অন্যটি হলো সম্মতি, আস্থা ও বৈধতার কৌশল বা সফট পাওয়ার (Soft Power)। বাস্তবে অধিকাংশ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা এই দুয়ের মাঝে বিভিন্ন মাত্রার কম্বিনেশনে সৃষ্টি হয়। আসলে এই কম্বিনেশন বা সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ; এ যেন অনেকটা সেই সুস্বাদু রান্নার রেসিপির মতো—তেল, ঝাল, মসলার যত সঠিক সমন্বয়, রান্না তত সুস্বাদু। আসলে সঠিক মাত্রার হার্ড পাওয়ার এবং সফট পাওয়ার ব্যবহারের প্রজ্ঞার মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে সফল নেতৃত্বের মূলসূত্র।

হার্ড পাওয়ারের সবচেয়ে পুরোনো পদ্ধতি হলো ভয় সৃষ্টি। প্রাচীন সাম্রাজ্যগুলোতে দমন, শাস্তি, কারাগার এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে আনুগত্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হতো। ফারাওয়ের মিশর, রোমান সাম্রাজ্য, মধ্যযুগীয় রাজতন্ত্র এবং স্বৈরশাসনগুলোতে রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ ক্ষমতা ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল। প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতিতে ক্ষমতার রূপ আরও সূক্ষ্ম। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) সরাসরি শারীরিক ভয় দেখিয়ে কর্মীদের পরিচালনা করেন না; বরং চাকরি হারানোর আশঙ্কা, পদোন্নতি, বেতন, মূল্যায়ন, দায়িত্ব, পুরস্কার এবং সাংগঠনিক নিয়মের মাধ্যমে সেখানে ক্ষমতার চর্চা করা হয়।

এর বিপরীতে রয়েছে সফট পাওয়ার, যার ভিত্তি হলো বিশ্বাস, সম্মান, নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, দক্ষতা এবং বন্ধন। একজন বাবা তাঁর সন্তানের ওপর যে প্রভাব রাখেন, তা কোনো রাষ্ট্রীয় আইনের কারণে নয়, বরং সেটা সফট পাওয়ার। শিক্ষার্থীর ওপর শিক্ষকের যে ক্ষমতা, শিষ্যের ওপর গুরুর যে ক্ষমতা, জাতিসত্তার মাঝে যে বন্ধনের শক্তি, একই ভাষাভাষী মানুষের মাঝে যে একাত্মতা, কোনো মূল্যবোধে একত্রিত মানুষের যে শক্তি—এর সবই সফট পাওয়ার থেকে সৃষ্টি। সফট পাওয়ার আসে জ্ঞান, ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা, নৈতিকতা, প্রেম কিংবা অভিন্ন সংস্কৃতি থেকে। তাই একজন সাধারণ মানুষ যখন জনতার মধ্যে এমন একটি পরিচয় ও আস্থার অনুভূতি সৃষ্টি করেন, যার কারণে বিশ্বাস, সম্মান আর শ্রদ্ধায় জনগণ তাঁর সঙ্গে যুক্ত হয়, তখনই তিনি হয়ে ওঠেন প্রকৃত জননেতা।

তবে অভিন্ন বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা কিন্তু কেউ জন্মগতভাবে বয়ে আনে না; এগুলো সামাজিক জীবন থেকেই সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ, সামাজিক জীবনের মধ্য দিয়ে শৈশব থেকে মানুষ যে বিশ্বাসে অভ্যস্ত হয়, যে মূল্যবোধে জীবনযাপনের অভ্যাস করে, যে আচরণকে সে ন্যায় বলে মনে করতে অভ্যস্ত হয়, সেই কাঠামোর ওপরই সৃষ্টি হয় সফট পাওয়ার। তাই ক্ষমতার মূল সূত্র আসলে সামাজিক অভ্যস্ততার সাথেই যুক্ত। মানুষ যা কিছুকে সম্মান মনে করে, তার পেছনেই শক্তি ও শ্রম দেয়; মানুষ যা কিছুকে নৈতিক বলে বিশ্বাস করে, সেটা রক্ষার জন্যই একত্রিত হয়।

অভিন্ন মানসিক অভ্যাস গঠনের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হওয়া ক্ষমতার সবচেয়ে শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে বাহ্যিক কমান্ড ধীরে ধীরে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণে রূপ নেয়। মানুষ তখন শাস্তির ভয় থেকে নিয়ম মানে না; সে মনে করতে শুরু করে যে নিয়মটি তার নিজের মূল্যবোধেরই অংশ। মিশেল ফুকোর বিশ্লেষণের সঙ্গে এই ব্যাখ্যার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম, মানদণ্ড, প্রথা, সামাজিক অভ্যাস ও মূল্যবোধ মানুষের আচরণকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে যে বাহ্যিক নজরদারি না থাকলেও এক অদৃশ্য ক্ষমতা মানুষকে ভেতর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করে চলে। ফলে সেই অভিন্ন মানসিক অভ্যাসে অভ্যস্ত জনগোষ্ঠীকে পথ দেখানো, পরিচালনা করা কিংবা প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে ওঠে।

তাই ক্ষমতার সাথে সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্কটি হলো জনগণের অভিন্ন মূল্যবোধের অভ্যাস গঠন করা এবং সেই অভিন্ন মানসিক গঠনকে রক্ষা করার সম্পর্ক। একটি জাতির মানুষ কোন বিষয়কে সবচেয়ে মূল্যবান মনে করতে অভ্যস্ত, সেই অভ্যাসেই তাদের মূল্যবোধ গড়ে ওঠে। তাই একজন প্রকৃত নেতা জনগণের মানসিক অভ্যাসগুলোকে উন্নত করার মাধ্যমে আনুগত্যের সেই কল্পিত পিরামিডের স্তরগুলোতে শক্তিশালী বন্ডিং এজেন্ট সৃষ্টি করতে পারেন। সাধারণ মানুষ অনেক সময় ভ্রান্ত মূল্যবোধে অভ্যস্ত থাকে, তাই কল্যাণ রাষ্ট্রের মূল এজেন্ডা হলো জনগণের মানসিক অভ্যাসকে সঠিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গুরুত্ব দেওয়া; যে মূল্যবোধ হবে বিশুদ্ধ সততা, দায়িত্বশীল আচরণ, সহনশীলতা, মানুষের প্রতি সম্মান আর ভদ্রতা।

(মাইন্ড-ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ের গবেষক) 

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement