মুন্সীগঞ্জে সাংবাদিকের বাবা মো. হাবিবুর রহমানকে অপহরণের পর আটকে রেখে ২ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপুকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকা থেকে স্বপন (৩৫) নামে তার এক সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাজীব হোসেন অপু মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর ধরে মুন্সীগঞ্জের কাটাখালী এলাকায় কাজী হিসেবে নিকাহ পড়ানো ও বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করে আসছেন হাবিবুর রহমান। তিনি দৈনিক মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা।
অভিযোগে বলা হয়, রোববার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে হাবিবুর রহমান কাটাখালী এলাকায় নিজ বাসায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় রাজীব, স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় যান। বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাকে প্রথমে কাজী অফিসে এবং পরে জোরপূর্বক মুক্তারপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি (২৫) গত ১ অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের অফিসে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং হাবিবুর রহমান ওই তালাক নিবন্ধন করেছেন।
এরপর অভিযুক্তরা হাবিবুর রহমানকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ২ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিজের প্রাণ রক্ষার জন্য হাবিবুর রহমান টাকা দিতে রাজি হন। পরে তিনি অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি, মুন্সীগঞ্জ শাখা থেকে নিজের হিসাবের ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের ওই টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় রাজীব, স্বপন ও কাটাখালী এলাকার সোহেল (৪৫)সহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন হাবিবুর রহমান।
সাংবাদিক নাহিদ হাসান বলেন, বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাদের বলা হয়েছিল, টাকা দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি যেন তারা মেনে নেন এবং ভবিষ্যতে অভিযুক্তদের লোকজন তার বাবার কাজী অফিসের দিকে তাকাবে না। মামলা করলে পরবর্তীতে কী হতে পারে, সে বিষয়েও তাকে ভয় দেখানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমি কারও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি শুধু চাই, আমার বাবাকে অপহরণ করে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিচার হোক।’
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মঙ্গলবার থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
মোজাম্মেল হোসেন সজল / এফএস