ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচ আজ
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

৮৫ হাজার দর্শকের সামনে বিদায়, বুয়েনস আয়ার্সে উৎসবের রাত , শেষ হচ্ছে দুই দশকের এক মহাকাব্য। 


আজ বুয়েনস আয়ার্সের রাতটা অন্যরকম , এ রাত শুধু একটি ফুটবল ম্যাচের রাত নয়। এ রাত একজন ফুটবলারের সঙ্গে একটি দেশের দীর্ঘ সম্পর্কের শেষ অধ্যায়। এ রাত এমন এক শিল্পীর বিদায়, যিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পায়ে বল নিয়ে আর্জেন্টিনার মানুষের আনন্দ, কান্না, হতাশা আর গর্বের গল্প লিখেছেন।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বুয়েনস আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন লিওনেল মেসি। স্থানীয় সময় রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচ। জাতীয় দলের হয়ে এটাই হবে তাঁর ২০৮তম ও শেষ ম্যাচ।

আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন মেসির বিদায়কে বলছে ‘শেষ ট্যাঙ্গো’। যে গল্পের শুরু হয়েছিল শৈশবের ফুটবল থেকে, তার শেষ নাচটাও হচ্ছে নিজের দেশে- নিজের মানুষের সামনে।

৮৫ হাজার মানুষের সামনে শেষবার

মনুমেন্টালে আজ প্রায় ৮৫ হাজার দর্শক মেসির বিদায় দেখবেন। টিকিটের চাহিদা ছিল তীব্র। বিক্রি শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় অধিকাংশ টিকিট। স্টেডিয়ামে জায়গা না পাওয়া সমর্থকদের জন্যও রাখা হয়েছে মেসির বিদায় দেখার বিশেষ ব্যবস্থা।

বুয়েনস আয়ার্সের বিশ্ববিদ্যালয় নগরীতে আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ উৎসব। দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এই আয়োজন। থাকবে বড় পর্দায় ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা, গান, খাবার, খেলাধুলা ও নানা বিনোদনমূলক আয়োজন।

সেখানে রাখা হবে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফাইনালিসিমা জয়ের ট্রফিও। সমর্থকেরা সেসব ট্রফির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ পাবেন। থাকবে দেশটির জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা।

অর্থাৎ মনুমেন্টালের ভেতরেই শুধু নয়, পুরো বুয়েনস আয়ার্সজুড়েই আজ মেসির বিদায়ের আবহ।


শুধু রাজধানী নয়, তাকিয়ে পুরো আর্জেন্টিনা


মেসির বিদায়ের কেন্দ্র বুয়েনস আয়ার্স হলেও আবেগ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো দেশে।

মেসির জন্মশহর রোসারিও, সান্তা ফে প্রদেশের সেই শহর, যেখান থেকে তাঁর ফুটবল-গল্পের শুরু, আজ বিশেষভাবে আলোচনায়। শৈশবের সেই শহর থেকে বিশ্বসেরা ফুটবলার হয়ে ওঠা মেসি আজ ফিরছেন জাতীয় দলের জার্সিতে শেষবারের মতো বিদায় নিতে।

কোরদোবাতেও সাম্প্রতিক ম্যাচ ঘিরে ছিল ব্যাপক উন্মাদনা। সেখানে বলিভিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এরপর বুয়েনস আয়ার্সে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের বড় জয়। তবে আজকের রাতের হিসাব অন্যরকম। আজ গোলের চেয়ে বড় মেসি। জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় মেসির বিদায়। আর্জেন্টিনার ২৩টি প্রদেশ ও রাজধানী শহরে কত মানুষ একসঙ্গে ম্যাচটি দেখবেন। দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, মেসির বিদায়কে ঘিরে এটি জাতীয় পর্যায়ের বিরল এক আয়োজন।


ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে


মেসির বিদায় শুধু আর্জেন্টিনার ঘটনা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তাঁর শেষ জাতীয় দলীয় ম্যাচটি দেখার প্রস্তুতি চলছে। লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে একই সময়ে মানুষ টেলিভিশন ও অনলাইনে ম্যাচটি দেখবেন। যুক্তরাষ্ট্রেও বিশেষ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও ম্যাচটি সরাসরি দেখানো হবে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েতে ম্যাচ শুরু হবে রাত ৮টায়। চিলি, বলিভিয়া ও ভেনেজুয়েলায় সন্ধ্যা ৭টায়। কলম্বিয়া, পেরু ও ইকুয়েডরে সন্ধ্যা ৬টায়। মেক্সিকোয় বিকেল ৫টায়। বাংলাদেশে তখন রাত পেরিয়ে বুধবারের শুরু। ফলে এ দেশের মেসিভক্তদেরও গভীর রাতে জেগে দেখতে হবে প্রিয় তারকার শেষ জাতীয় দলীয় ম্যাচ। কত কোটি মানুষ দেখবেন , মেসির বিদায়ী ম্যাচটি বিশ্বজুড়ে শত কোটি মানুষ দেখবেন। তবে মেসির জনপ্রিয়তার ব্যাপ্তি বোঝার জন্য ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের দিকে তাকানো যায়। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের সেই ফাইনাল বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৪২ কোটি মানুষ দেখেছিলেন। আজকের ম্যাচ বিশ্বকাপের ফাইনাল নয়। তাই সেই সংখ্যা আজকের ম্যাচের সম্ভাব্য দর্শকসংখ্যা নয়। কিন্তু এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, মেসিকে ঘিরে ফুটবলের আবেগ এখন আর শুধু আর্জেন্টিনার সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। আজ রোসারিও থেকে ঢাকার অলিগলি, বুয়েনস আয়ার্স থেকে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া অসংখ্য মেসিভক্তের চোখ থাকবে মনুমেন্টালের মাঠে।

২১ বছরের জাতীয় দলের অধ্যায়


মেসির জাতীয় দলের গল্প শুরু হয়েছিল ২০০৫ সালে। ১৭ আগস্ট হাঙ্গেরির বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে অভিষেক হয় তাঁর।
এর আগে একই বছর অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন তিনি। কিন্তু জাতীয় দলের শুরুটা আজকের মতো উজ্জ্বল ছিল না। ক্লাব ফুটবলে একের পর এক সাফল্য এলেও আর্জেন্টিনার হয়ে বড় শিরোপা না পাওয়ায় তাঁকে শুনতে হয়েছে তীব্র সমালোচনা। বিশ্বকাপ ও কোপা আমেরিকার একাধিক ফাইনালে হারের পর প্রশ্ন উঠেছিল তাঁর নেতৃত্ব নিয়েও। ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু তাঁকে ছাড়তে চায়নি আর্জেন্টিনা। দেশের মানুষের আবেগ, সতীর্থদের আহ্বান ও ফুটবলের প্রতি নিজের টান তাঁকে ফিরিয়ে আনে জাতীয় দলে। তারপর বদলে যায় গল্প।

যে ট্রফির জন্য এত অপেক্ষা

২০২১ সালে ব্রাজিলের মাটিতে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে মেসির জাতীয় দলের বড় শিরোপার অপেক্ষা শেষ হয়। এরপর ২০২২ সালে ইতালিকে হারিয়ে ফাইনালিসিমা জয়।  ১৮ ডিসেম্বর ২০২২ ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই অবিস্মরণীয় ফাইনাল। মেসি করেন দুটি গোল। টাইব্রেকারেও গোল করেন। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জেতে। ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটে । মেসির হাতে ওঠে সেই বিশ্বকাপের ট্রফি, যে ট্রফিকে ঘিরেই তাঁর জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতার গল্প তৈরি হয়েছিল।
আবার ২০২৪ সালে আবার কোপা আমেরিকা জয়।



জাতীয় দলের হয়ে মেসির বড় শিরোপা

- ২০০৫ অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ
- ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক
- ২০২১ কোপা আমেরিকা
- ২০২২ ফাইনালিসিমা
- ২০২২ বিশ্বকাপ
- ২০২৪ কোপা আমেরিকা

বিশ্বকাপের ছয় আসরে মেসি

মেসি খেলেছেন ছয়টি বিশ্বকাপে , ২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬।

বিশ্বকাপে তাঁর ম্যাচ ৩৪টি, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। জয়ও তাঁর ২৩টি। গোল করেছেন ২১টি।

একই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনালে গোল করার অনন্য রেকর্ডও রয়েছে তাঁর।

বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তিনি জিতেছেন দুবার ২০১৪ ও ২০২২ সালে। এই পুরস্কার দুবার জেতা ইতিহাসে আর কোনো খেলোয়াড়ের নেই।

২০২৬ বিশ্বকাপেও খেলেছেন মেসি। সেই আসরে করেছেন আট গোল ও চারটি গোলে সহায়তা। আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়।


আজকের ম্যাচের আগে জাতীয় দলের হয়ে মেসির পরিসংখ্যান 

ম্যাচ — ২০৭
গোল — ১২৫
গোলে সহায়তা — ৬৮
বিশ্বকাপ — ৬টি
বিশ্বকাপ ম্যাচ — ৩৪টি
বিশ্বকাপ গোল — ২১টি

আর্জেন্টিনার হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এবং সবচেয়ে বেশি গোল করা ফুটবলার তিনি।

তবে গোলে সহায়তার সংখ্যায় বিভিন্ন পরিসংখ্যান প্রতিষ্ঠানের হিসাবে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। তাই এ ক্ষেত্রে পরিসংখ্যানের উৎসভেদে সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।


ক্লাব ফুটবলেও সাফল্যের পাহাড়


মেসির অর্জন শুধু জাতীয় দলের জার্সিতে সীমাবদ্ধ নয়।

বার্সেলোনার হয়ে তিনি জিতেছেন ৩৪টি ট্রফি। এরপর প্যারিস সাঁ-জার্মাঁর হয়ে ফ্রান্সের ঘরোয়া শিরোপা এবং ইন্টার মায়ামির হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলেও ইতিহাস গড়েছেন।

বার্সেলোনার হয়ে তাঁর বড় অর্জনের মধ্যে রয়েছে—

- চ্যাম্পিয়নস লিগ চারবার
- লা লিগা ১০ বার
- কোপা দেল রে সাতবার
- ক্লাব বিশ্বকাপ তিনবার
- স্প্যানিশ সুপার কাপ একাধিকবার

ক্লাব ফুটবলে তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনও অসংখ্য।

আটবারের ব্যালন ডি'অর

বিশ্বের সেরা ফুটবলারের ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি'অর মেসি জিতেছেন আটবার।

২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালে তাঁর হাতে উঠেছে এই পুরস্কার।

এটিও একটি বিশ্বরেকর্ড।

এ ছাড়া তিনবার বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, দুবার বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার এবং ছয়বার ইউরোপের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন তিনি।

লা লিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও তাঁর।

গোলের পর গোল, রেকর্ডের পর রেকর্ড

লা লিগায় মেসির গোল ৪৭৪টি—রেকর্ড।

এক মৌসুমে লা লিগায় সর্বোচ্চ ৫০ গোল করেছেন তিনি।

এক বছরে বার্সেলোনার হয়ে ৭৯ গোল করেছিলেন ২০১২ সালে। আর্জেন্টিনার গোলসহ ওই বছরে তাঁর মোট গোল দাঁড়ায় ৯১টি।

এমন কীর্তি ফুটবল ইতিহাসে বিরল।

চ্যাম্পিয়নস লিগেও তাঁর রয়েছে অসংখ্য রেকর্ড। বার্সেলোনার হয়ে এই প্রতিযোগিতায় করেছেন ১২০ গোল।

এক ম্যাচে পাঁচ গোল করার কীর্তিও রয়েছে তাঁর। শেষ ষোলোর এক দ্বৈরথে করেছেন ছয় গোল।

আজ শুধু ম্যাচ নয়, বিদায়ের উৎসব


আজকের আয়োজনকে শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ হিসেবে দেখছে না আর্জেন্টিনা।

স্টেডিয়ামের দরজা খুলবে বিকেল ৪টায়। এরপর শুরু হবে সংগীত ও বিনোদনের আয়োজন। জনপ্রিয় শিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন।

জাতীয় সংগীত গাইবেন ফাবিও সান্তানা, যিনি ফকল্যান্ডস যুদ্ধে অংশ নেওয়া সাবেক সেনাসদস্য।

ম্যাচ শেষে মেসির জেতা জাতীয় দলের ট্রফিগুলো প্রদর্শন করা হবে। এরপর থাকবে ড্রোন প্রদর্শনী ও আতশবাজি।

গান গাইবেন সোলে দাদ পাস্তোরুতি ও উলিসেস বুয়েনো।

সবশেষে মেসির হাতে তুলে দেওয়া হবে মাইক্রোফোন। ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে তিনি কথা বলবেন কি না, সেটিও হয়ে উঠেছে আজকের রাতের অন্যতম প্রতীক্ষার বিষয়।


মেসির বিদায়কে ঘিরে বুয়েনস আয়ার্স প্রশাসনও নিয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

স্টেডিয়ামের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় নগরীর বিশেষ উৎসবস্থলেও থাকবে নিরাপত্তা বলয়। এক হাজারের বেশি পুলিশ, নিরাপত্তাকর্মী ও ট্রাফিক সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে যান চলাচল।

অর্থাৎ মেসির বিদায় আজ বুয়েনস আয়ার্সের জন্য শুধু একটি খেলা নয় এটি একটি বড় নাগরিক আয়োজন।

যে মেসিকে একসময় শুনতে হয়েছিল ‘হৃদয়হীন’

আজ যে আর্জেন্টিনা মেসিকে অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় জানাচ্ছে, সেই দেশেই একসময় তাঁকে শুনতে হয়েছে কঠোর সমালোচনা।

বার্সেলোনার হয়ে অসংখ্য সাফল্য অর্জন করেও জাতীয় দলের হয়ে বড় শিরোপা না পাওয়ায় তাঁকে বলা হয়েছিল ‘পেছো ফ্রিও’—অর্থাৎ আবেগহীন।

২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে হার। ২০১৫ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার। ২০১৬ সালে আবার কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার।

প্রতিবারই হতাশা।

শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালে জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি।

কিন্তু দেশ তাঁকে ছাড়েনি।

আর্জেন্টিনার মানুষ তাঁকে ফিরে আসতে বলেছে। মেসিও ফিরেছেন।

তারপর? 

কোপা আমেরিকা।

ফাইনালিসিমা।

বিশ্বকাপ।

আবার কোপা আমেরিকা।

এমনকি ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছে আর্জেন্টিনা।

একসময় যে মানুষটিকে জাতীয় দলের ব্যর্থতার জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তিনিই হয়ে উঠেছেন আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় সাফল্যের প্রতীক।

মেসির ১০ নম্বরের কী হবে?

মেসির বিদায়ের সঙ্গে আরেকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সি এবার কার?

কোচ লিওনেল স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসির বিদায়ের আগে ১০ নম্বর কাউকে দেওয়া হবে না।

তরুণ নিকো পাজ ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর মতো ফুটবলারদের নাম ভবিষ্যতের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

তবে মেসির ১০ নম্বর শুধু একটি সংখ্যা নয়।

এটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সঙ্গে মিশে যাওয়া একটি প্রতীক।

মেসির পর নতুন প্রজন্ম

মেসির বিদায়ের পর নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে পারেন ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এমিলিয়ানো মার্তিনেস ও লাওতারো মার্তিনেসও রয়েছেন সম্ভাব্য নেতৃত্বের সারিতে।

অর্থাৎ আজ শুধু একজন খেলোয়াড় বিদায় নিচ্ছেন না।

আজ এক প্রজন্মের কাছ থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে আর্জেন্টিনার ফুটবলের দায়িত্ব।

মেসি ও দি মারিয়ার প্রজন্মের বিদায়ের পর সামনে থাকবেন রোমেরো, ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফের্নান্দেস, হুলিয়ান আলভারেস, লাওতারো মার্তিনেস, নিকো পাজ ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনোর মতো নতুন মুখ।

শেষ হবে একটি যুগ

ফুটবলে অনেক কিংবদন্তি এসেছেন। কেউ বিশ্বকাপ জিতেছেন, কেউ অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন, কেউ একটি প্রজন্মকে বদলে দিয়েছেন।

কিন্তু মেসির গল্প যেন অন্যরকম।

তিনি শুধু জেতেননি।

হেরেছেনও।

কেঁদেছেন।

সমালোচনা সহ্য করেছেন।

জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়েছেন।

আবার ফিরে এসেছেন।

তারপর জিতেছেন সবকিছু।

আজ তাঁর জাতীয় দলের ক্যারিয়ারের শেষ পাতা লেখা হবে সেই দেশেই, যে দেশ একসময় তাঁর ওপর অভিমান করেছিল, পরে তাঁকে ফিরে পেয়েছে, তারপর ভালোবেসেছে এবং শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে গর্ব করেছে।

মনুমেন্টালের ৮৫ হাজার কণ্ঠ আজ হয়তো একসঙ্গে বলে উঠবে- ধন্যবাদ, লিও।

আজকের রাতের শেষে স্কোরলাইন থাকবে। গোলের সংখ্যা থাকবে। রেকর্ড থাকবে। পরিসংখ্যান থাকবে।

কিন্তু মেসির বিদায়ের আসল হিসাব কোনো সংখ্যায় ধরা যাবে না।

কারণ শেষ হচ্ছে শুধু একটি জাতীয় দলের ক্যারিয়ার নয়।

শেষ হচ্ছে আর্জেন্টিনা ফুটবলের একটি যুগ।

আর সেই যুগের নাম লিওনেল মেসি।

  এফএস 
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement