খুলনার রূপসা উপজেলায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার ১৫ দিন পর গুলিতে নিহত হয়েছেন আক্তার ঢালী। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের দুর্জনীমহল গ্রামে তাকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর রূপসা থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেছিলেন আক্তার ঢালী। তার অভিযোগ ছিল, ছেলে জয় ঢালী হত্যা মামলার আসামিরা মামলা তুলে নিতে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিচ্ছেন।
এ ঘটনায় উদ্বেগের আরও একটি বিষয় হলো, প্রায় ৫০ দিন আগে একই এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হন আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালী (২৫)। গত ১৫ আগস্ট সন্ধ্যায় দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহতের মা নাসিমা বেগম বাদী হয়ে ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
জিডিতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
গত ২১ সেপ্টেম্বর করা জিডিতে আক্তার ঢালী উল্লেখ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে সেনেরবাজার এলাকায় ছেলে জয় হত্যা মামলার আসামি মুনজিল শেখ, মুরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যা তাকে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশেরও ভয় দেখানো হয়।
জিডিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জয় ঢালী হত্যা মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। তাদের হুমকিতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জিডিতে উল্লেখ করেন।
রূপসা থানা পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের দুই দিন পর জিডিটি নথিভুক্ত করা হয়। জিডি নম্বর-১৪১২, তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার জাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মসজিদের পাশে বসে ছিলেন, গুলি করে হত্যা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার মাগরিবের নামাজ শেষে মসজিদের পাশে একটি চায়ের দোকানের বেঞ্চে স্থানীয়দের সঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন আক্তার ঢালী। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়।
পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে বেঞ্চের পাশে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রূপসা থানার ওসি আনোয়ার জাহিদ বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের গুলিতে আক্তার ঢালী নিহত হয়েছেন। কী কারণে এবং কারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
-টিএস