সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের আপত্তির মুখে মেয়েদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। খেলাটিকে ‘ইসলামবিরোধী’ ও ‘অশ্লীলতা’র আশঙ্কা উল্লেখ করে আপত্তি জানানো হলে শেষ পর্যন্ত আয়োজকেরা ম্যাচটি স্থগিত করেন।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে দিরাই উপজেলা স্টেডিয়ামে স্থানীয় স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও সিলেটের জারা স্পোর্টিং ক্লাবের মেয়েদের মধ্যে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
আয়োজকেরা জানান, ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি আগেই দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকারকে জানানো হয়েছিল। তবে রোববার রাতে কয়েকজন ব্যক্তি ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে খেলা বন্ধের দাবি জানান। পরে আয়োজকেরা ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দুপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলা আয়োজনের পরামর্শ দেন। সমঝোতা না হলে খেলা স্থগিত করার কথা বলেন তিনি।
আয়োজক সংগঠনের প্রতিনিধি রাকিব আহমেদ ভূইয়া বলেন, সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও খেলা স্থগিত করার পরামর্শ দেওয়া হলে তারা ম্যাচটি স্থগিত করেন।
খেলা বন্ধের দাবিতে ইউএনওর কাছে যাওয়া ব্যক্তিদের একজন দিরাই পৌর এলাকার চন্ডিপুরের বাসিন্দা মাওলানা মো. শরিফ উদ্দিন। তিনি নিজেকে ‘দিরাই ইসলামবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি’র সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।
শরিফ উদ্দিন বলেন, তারা কিশোরীদের খেলাধুলার বিপক্ষে নন। তবে অন্য এলাকার নারীরা এসে মাঠে খেললে ‘নাচানাচি ও অশ্লীলতা’ হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই তারা আপত্তি জানিয়েছেন। তার দাবি, দিরাইয়ে এর আগে এভাবে নারীদের ফুটবল খেলা হয়নি।
তবে রাকিব আহমেদ ভূইয়া বলেন, স্বপ্নচূড়া স্পোর্টিং ক্লাব ২০১৯ সালে যাত্রা শুরু করে। স্থানীয় কিশোরীদের নিয়ে গঠিত দলটি নিয়মিত ফুটবল খেলছে। ২০১৯ সালে তাদের আমন্ত্রণে দেশের সাতটি জেলার নারী ফুটবল দল দিরাইয়ে এসে খেলেছে। একইভাবে স্বপ্নচূড়ার খেলোয়াড়রাও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে খেলেছে। দলের খেলোয়াড়েরা জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায়ও অংশ নিয়েছেন।
রাকিব বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মেয়েদের ফুটবল আয়োজন করা হলেও এবার হঠাৎ করে খেলা নিয়ে আপত্তি ওঠায় তারা বিস্মিত।
এদিকে, রোববার রাতে ইউএনও সনজীব সরকারের সঙ্গে দেখা করে খেলার নামে ‘অশ্লীলতা’ বন্ধের দাবি জানান শরিফ উদ্দিনসহ কয়েকজন। পরে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে শরিফ উদ্দিন দিরাইয়ে কোনো ‘ইসলামবিরোধী’ কার্যক্রম হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন।
ইউএনও সনজীব সরকার বলেন, “যেহেতু দুপক্ষই দিরাইয়ের বাসিন্দা, তাই আমি তাদের আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করে খেলা আয়োজনের কথা বলেছিলাম। পরে আয়োজকেরা জানিয়েছেন, তারা নিজেরাই খেলাটি স্থগিত করেছেন।”
এসএস