ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ডের পর টেনেসির কারা প্রধানের পদত্যাগ
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম আপডেট: ০৪.১০.২০২৬ ১২:৩৩ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

ক্রিস্টা পাইকের প্রাণঘাতী ইনজেকশন ব্যর্থ, স্বাধীন তদন্তের মধ্যেই সরে দাঁড়াচ্ছেন ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতার কয়েক দিনের মধ্যেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন অঙ্গরাজ্যের কারা বিভাগের প্রধান ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্রিস্টা পাইকের প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত শুরুর পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

টেনেসির গভর্নর বিল লি জানিয়েছেন, স্ট্রাডা চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের কমিশনারের পদ ছাড়বেন। তাঁর উত্তরসূরির নাম পরে ঘোষণা করা হবে।

স্ট্রাডা বলেছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় তাঁর বিভাগের কর্মকর্তারা নির্ধারিত প্রটোকল অনুসরণ করেছেন বলেই তিনি বিশ্বাস করেন। তবে ঘটনার স্বাধীন তদন্ত চলার সময়ে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোই অঙ্গরাজ্যের স্বার্থে সবচেয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তিনি। তদন্তে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, তা বের করতে তিনি সহযোগিতা করবেন বলেও জানিয়েছেন।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় কী ঘটেছিল

৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড ৩০ সেপ্টেম্বর ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনে কার্যকর করার কথা ছিল। তাঁকে প্রাণঘাতী ওষুধ পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ দেওয়ার পরও তাঁর মৃত্যু হয়নি।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর অচেতন অবস্থায় পাইককে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়।


পাইকের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর শরীরে ওষুধ প্রয়োগের জন্য একাধিকবার শিরায় ইনজেকশন দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, আইভি লাইন সঠিকভাবে স্থাপন না হওয়ায় পেন্টোবারবিটাল রক্তপ্রবাহে না গিয়ে শরীরের টিস্যুতে প্রবেশ করে থাকতে পারে। এতে তাঁর দুই হাত ফুলে যায় এবং পুড়ে যাওয়ার মতো ক্ষত ও ফোসকা তৈরি হয়।

আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পাইক প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ওষুধের প্রভাব মোকাবিলার চেষ্টা করা হয়।

অ্যারিজোনাতেও বিতর্কে ছিলেন স্ট্রাডা

টেনেসির কারা বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার আগে ফ্রাঙ্ক স্ট্রাডা অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের কারা প্রশাসনে কাজ করেছেন। সেখানেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়েছিল তাঁর প্রশাসন।

২০২২ সালে অ্যারিজোনায় তিনটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় শিরায় প্রাণঘাতী ওষুধ প্রয়োগে জটিলতা দেখা দেয়। ক্ল্যারেন্স ডিক্সনের ক্ষেত্রে আইভি লাইন স্থাপনে দীর্ঘ সময় লাগে। ফ্র্যাঙ্ক অ্যাটউডের ক্ষেত্রেও শিরা খুঁজে পেতে কর্মকর্তাদের একাধিকবার চেষ্টা করতে হয়েছিল। এসব ঘটনার পর অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়।

টেনেসিতেও স্ট্রাডার দায়িত্বের সময় একই ধরনের সমস্যা সামনে আসে। চলতি বছরের মে মাসে টনি কারাথার্সের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। নির্ধারিত প্রটোকল অনুযায়ী বিকল্প আইভি লাইন স্থাপন করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা হয়।

 বছরের বাকি মৃত্যুদণ্ড স্থগিত

পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থতার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সময়ের নির্ধারিত মৃত্যুদণ্ড কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে স্বাধীন পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।

পাইকের আইনজীবীরা স্ট্রাডার পদত্যাগকে স্বাগত জানালেও বলেছেন, শুধু কারা বিভাগের প্রধানের পদত্যাগে সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁদের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পুরো ব্যবস্থা, প্রটোকল এবং জবাবদিহি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কোলিন স্লেমারকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হন ক্রিস্টা পাইক। এরপর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় তিন দশক পর তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছে।


  এফএস 

Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement