ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার। সরকারি বাহিনীর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০টি সামরিক অভিযানে অন্তত ১ হাজার ৫৪০ হুথি যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন।
সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি জানান, হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, গোলন্দাজ কামান, ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে তাইজ প্রদেশে। এসব অভিযানে হুথিদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শনিবারও ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুথিদের বিরুদ্ধে শতাধিক হামলা চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর দাবি, ওই দিনের ২৫৭টি নির্ভুল হামলায় অন্তত ৭০০ হুথি যোদ্ধা নিহত এবং ১৭০টি সামরিক যান ও ভারী সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে। তবে সরকারি বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির কোনো হিসাব দেওয়া হয়নি।
নতুন করে তীব্র লড়াইয়ের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে তাইজ শহর। শহরের পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে ব্যাপক গোলাবর্ষণ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। গোলার আঘাতে ধুবাব এলাকায় একটি শিশুও নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এদিকে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল-হুবান ও সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন তাইজ শহরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালে মানবিক কারণে নয় বছর বন্ধ থাকার পর সড়কটি বেসামরিক চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল।
২০২২ সালে সরকার ও হুথিদের মধ্যে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলতি বছরের জুলাইয়ে ভেঙে যাওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত আবার তীব্র হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি হুথিরা পশ্চিম ইয়েমেনের কয়েকটি এলাকা দখল করে মোখা বন্দর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপর সরকারি ও হুথিবিরোধী বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ে।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে জর্জরিত। নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর ইতোমধ্যে কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এফএস