পিরোজপুরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। বরিশাল বিভাগের মধ্যে আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে থাকার পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলার মধ্যেও পিরোজপুরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। চলতি বছরে জেলার সদর হাসপাতালসহ সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন পর্যন্ত ৩হাজার ১৩৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৩ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পিরোজপুরের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ১৮২ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৯৫১ জন। জেলায় ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
বর্তমানে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে ৪৪ জন, নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন, নেছারাবাদে ৮ জন, কাউখালীতে ৩ জন, ভান্ডারিয়ায় ৮ জন, মঠবাড়িয়ায় ২ জন এবং ইন্দুরকানি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকেও ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ও স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের সীমিত জায়গার কারণে ডেঙ্গু রোগী ও সাধারণ রোগীদের কাছাকাছি অবস্থান করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। এতে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে আশঙ্কা করে তারা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড বা কক্ষের দাবি জানিয়েছেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা হাসপাতালে পৃথক ডেঙ্গু কর্নার চালু করা হয়েছে। রোগীদের সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ মেডিকেল টিমও গঠন করা হয়েছে।
পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান সবাইকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত সচেতনতা ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
মেডিসিন কনসালটেন্ট ডাক্তার সুরঞ্জিত সাহা বলেন দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে পিরোজপুর অনেক ডেঙ্গুর সংখ্যা, কখনোই কমছে না মনে হচ্ছে, দিনে দিনে বেড়েই চলছে এক্ষেত্রে যারা চিকিৎসা নিতে আসছে তারাও কিছুটা ভোগান্তি শিকার। আমরা যারা চিকিৎসা দিচ্ছি আমাদের পক্ষে অনেকটা আনবেয়ারেবল, তারপরেও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার( আরএমও) ডাঃ নিজাম উদ্দিন বলেন ৩৫০ জন ভর্তি হয় প্রতিদিন, তাই আমাদের সবাইকে সামাল দিতে গিয়ে একটু হিমশিম খেতে হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এসএ