লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রোপচার বন্ধ। এসব হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার (ওটি), প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকলেও সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগের চিকিৎসক না থাকায় সেবা ধেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। ফলে বাধ্য হয়েই অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের জেলা সদরসহ অন্য হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জাম রয়েছে। তবে চিকিৎসক সংকটে দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন বন্ধ। প্রসূতি রোগীসহ অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়া রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একই পরিস্থিতি। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কামনাশিস মজুমদার বলেন, ওটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়নের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিমাসে জানানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “সার্জারি, গাইনি ও অ্যানেসথেসিওলজিস্টসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। এ কারণে অপারেশন কার্যক্রম চালু করা যাচ্ছে না। রামগতির অধিকাংশ মানুষ নিম্ন আয়ের। উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতালও নেই। ফলে অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের অন্যত্র নিতে হওয়ায় ভোগান্তি বেশি হচ্ছে।"
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০২০ সালের নভেম্বরের পর থেকে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম বন্ধ। হাসপাতাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় সেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়নি।
হাসপাতালে আসা রোগী ও স্বজনদের ভাষ্য, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে তাঁদের অন্য হাসপাতালে যেতে হয়। এতে বাড়তি চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি গুরুতর রোগী ও প্রসূতিদের স্থানান্তরে ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল দ্রুত পদায়ন করে অস্ত্রোপচার সেবা চালু করা হোক। তাঁদের মতে, এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসাব্যয় ও ভোগান্তি কমবে।
লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন বাহারুল আলম বলেন, “স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসক পদায়নের উদ্যোগের বিষয়টি শুনেছি। পদায়ন হলে অপারেশন থিয়েটার চালু করে অস্ত্রোপচার শুরু করা হবে।”
চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত তিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওটি চালু হচ্ছে না। ফলে অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি থাকলেও অস্ত্রোপচার সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় রোগীরা।
সালমান ইমন/টিআই