সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের বাংলাদেশ ত্যাগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছেন যুগান্তরের সাবেক সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক হেলাল উদ্দিন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন করেছেন, শেখ হাসিনা কি সত্যিই ‘পালিয়ে’ ভারতে গিয়েছিলেন, নাকি রাষ্ট্রীয় ও সামরিক ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে তাঁকে দেশ ছাড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল?
হেলাল উদ্দিন তাঁর পোস্টে ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, ত্রিবেদী স্পষ্ট করে বলেছেন- শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যায়নি; বাংলাদেশের একটি সামরিক বিমানেই তাঁকে ভারতে নেওয়া হয়েছিল।
পোস্টে হেলাল উদ্দিন আরও উল্লেখ করেন, ত্রিবেদীর বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা ছাড়ার সময় শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর আগমনের জন্য ভারত আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না বলেও ত্রিবেদীর বক্তব্যে উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এই বক্তব্যের সূত্র ধরে ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের প্রশাসনিক ও সামরিক দিক নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন যুগান্তরের সাবেক এই সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক।
হেলাল উদ্দিনের পোস্ট অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সি-১৩০ সামরিক পরিবহন বিমানের কলসাইন ছিল AJAX1431। প্রকাশিত এটিসি তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি লিখেছেন, বিমানটি ঢাকা থেকে প্রথমে ‘ট্রেনিং ফ্লাইট’ হিসেবে উড্ডয়ন করে।
এরপরই তাঁর প্রশ্ন- একজন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সামরিক বিমান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিল? ফ্লাইটটির অনুমোদন দিয়েছিল কোন কর্তৃপক্ষ? আর ভারতের কাছে অবতরণের অনুমতি চাওয়ার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের কোন কর্তৃপক্ষ যুক্ত ছিল?
হেলাল উদ্দিন আরও প্রশ্ন তুলেছেন, বিমানটি কেন শুরুতে ‘ট্রেনিং ফ্লাইট’ হিসেবে উড্ডয়ন করেছিল এবং শেখ হাসিনাকে ভারতের হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছে দেওয়ার পর বিমানটির ক্রু ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সদস্যদের কাছ থেকে কোনো ব্যাখ্যা নেওয়া হয়েছিল কি না।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত করেছিল কি না-এ প্রশ্নও তুলেছেন হেলাল উদ্দিন।
তিনি জানতে চেয়েছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যদি এ বিষয়ে কোনো তদন্ত করে থাকে, তাহলে সেই তদন্তের ফলাফল কোথায় এবং তা জনগণের সামনে প্রকাশ করা হয়েছে কি না।
তবে পোস্টে হেলাল উদ্দিন নিজেই সতর্ক করেছেন, প্রমাণ ছাড়া তিনি ঘটনাটিকে ‘ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল’ বলে সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনার বিষয়ে কোনো তদন্ত হয়ে থাকলে তার ফলাফল জনগণের সামনে আসা উচিত।
হেলাল উদ্দিনের পোস্টের কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হলো- শেখ হাসিনার ৫ আগস্টের ভারতযাত্রাকে শুধু ‘পালিয়ে যাওয়া’ হিসেবে দেখা হবে, নাকি তাঁর দেশত্যাগের পেছনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক ব্যবস্থাপনার ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হবে?
তাঁর উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর চূড়ান্ত উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, সামরিক নির্দেশনা, এটিসি রেকর্ড এবং কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।
ফলে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের সামরিক বিমান ব্যবহারের বিষয়টি এবং ওই যাত্রার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া।
-টিএস