ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি- নেপথ্যে কারা?
✎
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৪ পিএম আপডেট: ০৩.১০.২০২৬ ৮:০৬ পিএম
X
Advertisement

৫ আগস্টের পর একের পর এক অভিযোগ, মামলা ও গ্রেপ্তার; আবার অভিযোগ উঠলেই বহিষ্কারও করেছে বিএনপি। প্রশ্ন- এগুলো কি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি বিস্তৃত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক?

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনেকেই প্রকাশ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।

একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল, ব্যবসায়ীদের ভয় দেখানো এবং বিভিন্ন খাত নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও আসতে থাকে।

তবে শুরু থেকেই বিএনপি নেতৃত্বের বক্তব্য ছিল- দলের নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তার দায় দল নেবে না। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলে আসছে দলটি।

৫ আগস্টের মাত্র ২৬ দিন পর, ৩১ আগস্ট ২০২৪, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রকাশ্যে বলেন, বিএনপির নাম ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি করলে তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক নেই।

কিন্তু এরপরও অভিযোগ থামেনি। অভিযোগের শুরুটা কোথায়?

৫ আগস্টের পরপরই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আসতে থাকে। কোথাও পরিবহন খাত, কোথাও শিল্পকারখানা, কোথাও বাজার, দোকান, নির্মাণকাজ কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ ওঠে।

এর একটি উদাহরণ জামালপুরের সরিষাবাড়ী। ৩০ আগস্ট ২০২৪-এ যমুনা সার কারখানার সামনে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। সে সময় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়, সার পরিবহনের গাড়িপ্রতি ৬৫০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামও উঠে আসে।

অর্থাৎ, সব ক্ষেত্রে চিত্রটি এমন ছিল না যে বাইরের কেউ শুধু ‘বিএনপির নাম’ ব্যবহার করছে। কিছু ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ এসেছে।

তবে এখানেই একটি সতর্কতা জরুরি- অভিযোগ ওঠা, মামলা হওয়া কিংবা কোনো প্রতিবেদনে কারও নাম আসা মানেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে- এমন নয়।

এই প্রশ্নটি তাই গুরুত্বপূর্ণ- অভিযোগ ওঠার পর বিএনপি কী করেছে?

২০২৪ সালের প্রথম দুই মাসের মধ্যেই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ১ হাজার ২২ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা দলীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়। এর মধ্যে ৫২২ জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ, ৪৩৭ জনকে বহিষ্কার, ২৪ জনকে সাময়িক বহিষ্কার এবং অন্যদের সতর্ক বা অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। অভিযোগের ধরন ছিল চাঁদাবাজি, দখল, হামলা, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয়।

তবে এই ১ হাজার ২২ জনের সবাই চাঁদাবাজির অভিযোগে শাস্তি পেয়েছেন-এমন দাবি করা যাবে না। সংখ্যাটির মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক অভিযোগ ছিল।

তবু সংখ্যাটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি দেখায়, ৫ আগস্টের পর তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা বিএনপির নেতৃত্বের জন্য একটি বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল।

২০২৫ সালেও দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, বিএনপির নাম ব্যবহার করে সহিংসতা, অপরাধ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনায় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শোকজ, বহিষ্কার এবং অন্যান্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে।

কিন্তু ‘নাম ভাঙানো’ আর ‘দলের পরিচয় ব্যবহার’ কি একই?

চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করলে অন্তত দুটি আলাদা চিত্র পাওয়া যায়।

প্রথমত, এমন ব্যক্তি থাকতে পারেন, যিনি বিএনপির নাম বা কোনো অঙ্গসংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করছেন, কিন্তু তাঁর প্রকৃত দলীয় পদ বা পরিচয় নিশ্চিত নয়।

দ্বিতীয়ত, এমন ব্যক্তিও রয়েছেন যাঁরা সত্যিই বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সাংগঠনিকভাবে যুক্ত। দ্বিতীয় ধরনের ঘটনা রাজনৈতিকভাবে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ তখন প্রশ্নটি শুধু ‘বিএনপির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি’ নয়। প্রশ্ন হয়- দলের সাংগঠনিক পরিচয় কি স্থানীয় অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে?

২০২৫ সালের জুলাইয়ে গাজীপুরের টঙ্গীতে বিএনপি চার নেতাকে চাঁদাবাজি ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করে। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে তাদের পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ বাতিলের কথা বলা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে শিল্পকারখানা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ছিল। দলের গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক জানান, তাঁদের একজন তখনই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন।

এ ধরনের পদক্ষেপ দেখায়, অন্তত কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে দলের সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিল।

তবে অভিযোগের সত্যতা ও অপরাধের দায় নির্ধারণের বিষয়টি আলাদা এবং তা আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়।

চাঁদাবাজির অভিযোগের সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর একটি এসেছে ঢাকার পরিবহন খাত থেকে।

২০২৫ সালের মার্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে সরকারি গোয়েন্দা তদন্তের বরাতে বলা হয়, ঢাকার ৫৩টি পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ডে প্রতিদিন আনুমানিক ২ কোটি ২১ লাখ টাকা অবৈধভাবে আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয় এবং তাদের মধ্যে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করা হয়।

এই হিসাবে মাসে আদায়ের পরিমাণ ৬৬ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। তবে এই অর্থকে ‘বিএনপির চাঁদাবাজির পরিমাণ’ বলা যাবে না।

কারণ সরকারি তদন্তে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি, পরিবহন-সংশ্লিষ্ট সংগঠন, টার্মিনাল ও স্থানীয় প্রভাবশালীসহ একাধিক পক্ষের সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে।

অর্থাৎ, এখানে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো একটি অর্থনৈতিক খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ অর্থ আদায়ের সম্পর্ক- কোনো একটি দলের আয় হিসেবে পুরো অর্থকে চিহ্নিত করা নয়।

ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নিয়ন্ত্রণ কি বদলেছে? এখানেই বিষয়টি আরও গভীর হয়।

বাংলাদেশে পরিবহন, বাজার, টার্মিনাল, ঘাট, নির্মাণকাজ কিংবা শিল্পাঞ্চলের মতো জায়গাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত।

ঢাকার পরিবহন খাত নিয়ে সরকারি তদন্তের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যে ধরনের স্থানীয় নেটওয়ার্ক অবৈধ অর্থ আদায়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল, ৫ আগস্টের পর কিছু এলাকায় সেই নিয়ন্ত্রণ নতুন প্রভাবশালীদের হাতে যায়। সেখানে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট স্থানীয় নেতাদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এটি সত্য হলে সমস্যাটি শুধু ‘কিছু বিএনপি কর্মীর চাঁদাবাজি’ হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না।

বরং প্রশ্ন ওঠে- রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে কি স্থানীয় অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মালিকানাও বদলেছে?

রাজনৈতিক সহিংসতা ও স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে শুধু একটি দলের সমস্যা হিসেবে দেখেননি। বাংলাদেশের দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, স্থানীয় ক্ষমতার প্রতিযোগিতা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কাঠামোকেও এ ধরনের ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট হিসেবে দেখা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদও বিষয়টিকে শুধু বিএনপির সমস্যা হিসেবে দেখেননি। তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, বাংলাদেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেই ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে নানা ধরনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠী দলীয় পরিসরে ঢোকার প্রবণতা দেখা যায়।

অর্থাৎ, সমস্যাটিকে শুধু একটি দলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর আচরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করলে এর বৃহত্তর রাজনৈতিক অর্থনীতি ধরা পড়ে না।

বাংলাদেশের স্থানীয় রাজনীতি নিয়ে একাডেমিক গবেষণায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা, স্থানীয় ক্ষমতা ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে।

গবেষক ডেভিড লুইস ও আবুল হোসাইনের গবেষণায় বাংলাদেশের স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘পৃষ্ঠপোষকতা’, স্থানীয় সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক রাজনৈতিক ব্যবস্থার পারস্পরিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

আরেকটি গবেষণায় নগর বাংলাদেশে রাজনৈতিক ক্ষমতা, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও চাঁদাবাজি নেটওয়ার্কের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সেখানে দেখানো হয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নেটওয়ার্কের চরিত্র বদলাতে পারে, কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের সম্পর্ক পুরোপুরি বিলীন হয় না।

এই গবেষণাগুলো ৫ আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ প্রমাণ করে না। তবে এগুলো একটি বৃহত্তর কাঠামোগত প্রেক্ষাপট দেয়- যার মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় স্থানীয় অর্থনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলাম-এর ২০২৫ সালের বাংলাদেশ বিষয়ক কান্ট্রি ফোকাস প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্টের পর বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

একই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি এ ধরনের অভিযোগের পর ১ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে দলটির জন্য এসব নেতা-কর্মীকে নিয়ন্ত্রণে রাখা একটি চ্যালেঞ্জ ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তবে এটিও মনে রাখা জরুরি- ইইউএএ-এর প্রতিবেদনটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও অধিকার সংগঠনের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি একটি ‘কান্ট্রি অব অরিজিন ইনফরমেশন’ প্রতিবেদন। এটি কোনো আদালতের রায় নয় এবং বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো সামগ্রিক অপরাধের বিচারিক প্রমাণ হিসেবেও ব্যবহার করা যায় না।

২০২৬ সালে এসে অভিযোগের ধরন আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। শুধু চাঁদাবাজি নয়, জমি দখল, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ভাঙচুর এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ঘিরে সামনে আসে।

এপ্রিল ২০২৬-এ রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি কলেজে এক নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে মারধরের ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ চাওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে বিরোধের সূত্রপাত হয়েছিল। পরে বিএনপি স্থানীয় নেতা আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলো বিষয়টিকে আরও নতুন মাত্রা দেয়।

২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাতে ঢাকার মিরপুর-১-এ রাদ্দা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, শতাধিক লোক সেখানে হামলা চালায় এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থাপনা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভেঙে ফেলা হয়। পরে পুলিশ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে এবং লুট হওয়া মালামালের দুই ট্রাক উদ্ধার করার কথা জানায়।

ঘটনাটির সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম মামলায় আসে। তবে তিনি তাঁর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, বিভিন্ন অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের নাম হামলার পরিকল্পনা ও লোক জড়ো করার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উঠে আসে। এসব অভিযোগ এখনো বিচারিকভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।

ঘটনাটি শুধু চাঁদাবাজির অভিযোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ এখানে অভিযোগের সঙ্গে জমির নিয়ন্ত্রণ, প্রতিষ্ঠান দখল, লুটপাট এবং রাজনৈতিক প্রভাব- সবগুলো বিষয় একসঙ্গে উঠে এসেছে।

এখানেই ৫ আগস্ট-পরবর্তী অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপি পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মোফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অনৈতিক ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়।

এর একই সময়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল এবং মিরপুরের গার্মেন্ট বর্জ্য ও অন্যান্য ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠে আসে। পুলিশি রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে চাঁদাবাজি, হত্যা, মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা থাকার তথ্যও পাওয়া যায়। তবে এসব অভিযোগের সবগুলোই আদালতে প্রমাণিত অপরাধ—এমন দাবি করা যাবে না।

এখানে একটি বিষয় আবারও সামনে আসে- অভিযুক্ত ব্যক্তি সত্যিই দলীয় পদে ছিলেন। ফলে ঘটনাটিকে শুধু ‘বিএনপির নাম ভাঙানো’ বলে উড়িয়ে দেওয়া কঠিন।

৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন ঢাকার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে এবং বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করে। বিলুপ্ত কমিটিগুলোর মধ্যে ছিল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল।

এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও দখলের অভিযোগসহ স্থানীয় বিএনপি-সংশ্লিষ্ট নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা চলার সময়। তবে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে ওই ঘটনার নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি; সেখানে অনিয়ম, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথা বলা হয়।

অর্থাৎ, বিএনপি একদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে, অন্যদিকে কিছু ক্ষেত্রে পুরো সাংগঠনিক কাঠামোও পুনর্গঠন করছে।

এটি দেখায় যে দলটি সমস্যাটিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করছে না।

কিন্তু এখানেই আবার মূল প্রশ্নটি ফিরে আসে- এগুলো কি কেবল কিছু ব্যক্তির বিচ্যুতি, নাকি স্থানীয় রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে এমন কোনো অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা বারবার একই ধরনের অভিযোগ সৃষ্টি করছে?

চাঁদাবাজির অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অভিযোগের ক্ষেত্রগুলো বিচিত্র- পরিবহন, শিল্পকারখানা, বাজার, নির্মাণকাজ, গার্মেন্ট বর্জ্য, জমি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দোকান এবং স্থানীয় ব্যবসা। এগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

অভিযোগে বারবার উঠে আসে স্থানীয় প্রভাব, রাজনৈতিক পরিচয় এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক।

কেউ যদি বিএনপির কোনো পদ ব্যবহার করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করেন, কেউ যদি রাজনৈতিক পরিচয়ের মাধ্যমে নির্মাণকাজ বা ব্যবসা থেকে টাকা দাবি করেন, আবার কেউ যদি স্থানীয় জমি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন- তাহলে রাজনৈতিক পরিচয়টি শুধু একটি পরিচয় থাকে না; সেটি অর্থনৈতিক ক্ষমতার হাতিয়ারেও পরিণত হতে পারে।

তবে এটিকে ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক’ বলার আগে আরও শক্ত প্রমাণ প্রয়োজন।

কারণ এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্যের বড় অংশ স্থানীয় নেতা-কর্মী, গোষ্ঠী ও ব্যক্তিকে ঘিরে। কেন্দ্রীয় বিএনপি এসব কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছে বা এসব অর্থ দলীয়ভাবে সংগ্রহ করেছে- এমন সর্বজনীন প্রমাণ প্রকাশ্যে নেই।

বরং প্রকাশ্য তথ্যের একটি অংশ দেখায় যে বিএনপি অভিযোগ ওঠার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

বিএনপির বক্তব্যের মূল সুর হলো- দলের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করলে সেটি দলের নীতি নয় এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরেও দলীয় নেতারা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলেছেন। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় এক বক্তব্যে সরকার চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় দলটির অভ্যন্তরেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ দেখা যায়। দলীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি নেতৃত্ব চাঁদাবাজি, জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগগুলো যাচাই করছে এবং দোষ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে। একই সময়ে কিছু অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দলীয় নেতাদের বক্তব্য উঠে আসে।

এখানে বিএনপির অবস্থান ও সমালোচকদের বক্তব্যের মধ্যে একটি মৌলিক পার্থক্য আছে।

বিএনপির বক্তব্য: অপরাধ করলে ব্যক্তি দায়ী; দল তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

সমালোচকদের প্রশ্ন: ব্যক্তি বহিষ্কার করলেই কি স্থানীয় রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোর সমস্যা সমাধান হয়?

দুই অবস্থানের মধ্যকার এই পার্থক্যই মূল বিতর্ক।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনাটি এই বিতর্ককে আরও জটিল করেছে।

পুলিশের হিসাবে ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি গ্রেপ্তার হয়েছে এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধার হয়েছে। একইসঙ্গে পুলিশ স্থানীয় বিএনপি-সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অর্থাৎ এখানে শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নয়- আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হয়েছে।

এই ঘটনাকে তাই সরাসরি ‘বিএনপির চাঁদাবাজি’ হিসেবে চূড়ান্তভাবে সংজ্ঞায়িত করার চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব, জমি দখল, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার দুর্বলতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা বেশি সতর্ক।

তাহলে কি বিএনপি-ই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত?

এই প্রশ্নের উত্তর এক কথায় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ দেওয়া তথ্যগতভাবে যথাযথ হবে না।

প্রকাশ্য তথ্য থেকে অন্তত চারটি বিষয় আলাদা করা যায়।

এক. বিএনপির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ হয়েছে- এটি বিভিন্ন প্রকাশিত প্রতিবেদনে নথিভুক্ত।

দুই. কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের পদধারী ছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিন. কিছু ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রকৃত দলীয় পরিচয় বা ঘটনার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

চার. ২০২৬ সালে অভিযোগের পরিধি শুধু চাঁদাবাজির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; জমি দখল, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ভাঙচুর ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও সামনে এসেছে।

তাই সব অভিযোগকে ‘বিএনপির চাঁদাবাজি’ বলা যেমন অতিরঞ্জিত হবে, তেমনি সব ঘটনাকে ‘বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বাইরের লোকের কাজ’ বলাও প্রকাশ্য তথ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্যের ভিত্তিতে সবচেয়ে সতর্ক সিদ্ধান্ত হলো- ঘটনাগুলোকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন বলে উড়িয়ে দেওয়ার মতো তথ্য নেই। আবার এগুলোকে একটি কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত বিএনপি-নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কের প্রমাণ বলার মতোও যথেষ্ট প্রকাশ্য প্রমাণ নেই।

যে বিষয়টি তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট, তা হলো রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় অর্থনৈতিক ক্ষমতার মধ্যে একটি সম্পর্ক বিভিন্ন ঘটনায় সামনে এসেছে।

পরিবহন, বাজার, জমি, শিল্পাঞ্চল, নির্মাণকাজ কিংবা ব্যবসা- এসব জায়গায় অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এই কাঠামো বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী বদলাতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে।

সুতরাং ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরের ঘটনাগুলোকে শুধু ‘বিএনপির কয়েকজন কর্মীর চাঁদাবাজি’ হিসেবে দেখলে একটি অংশ বাদ পড়ে যায়।

আবার এটিকে সরাসরি ‘বিএনপির কেন্দ্রীয় চাঁদাবাজি নেটওয়ার্ক’ বললেও প্রমাণের সীমা অতিক্রম করা হবে।

বরং যে প্রশ্নটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হলো- রাজনৈতিক পরিচয় কি স্থানীয় অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণের একটি নতুন লাইসেন্সে পরিণত হচ্ছে?

এবং আরও গুরুত্বপূর্ণ- বিএনপি কি শুধু অভিযোগ ওঠার পর ব্যক্তিকে বহিষ্কার করছে, নাকি এমন একটি সাংগঠনিক ব্যবস্থা তৈরি করছে যাতে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় অর্থনৈতিক ক্ষমতা দখলের সুযোগই কমে যায়?

কারণ ব্যক্তি বহিষ্কার করা এবং একটি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তন করা এক বিষয় নয়।

৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত প্রকাশিত ঘটনাগুলো দেখায়, বিএনপি একাধিকবার অভিযুক্ত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শোকজ, বহিষ্কার, কমিটি বিলুপ্তি ও অন্যান্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। একই সময়ে বিএনপি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ ও ভাঙচুরের অভিযোগও বারবার সামনে এসেছে।

এই দুই বাস্তবতা- অভিযোগের পুনরাবৃত্তি এবং দলীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা- একসঙ্গে বিবেচনা করলেই ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতির ছবিটি আরও পরিষ্কার হয়।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি শুধু ‘দল কতজনকে বহিষ্কার করল?’ নয়।

প্রশ্ন হলো- দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে স্থানীয় অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়, সেটি ঠেকানোর মতো কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা কি বিএনপি তৈরি করতে পারছে?

আর তার উত্তর নির্ভর করবে শুধু দলীয় বহিষ্কারের সংখ্যার ওপর নয়; বরং পুলিশি তদন্ত, আদালতের সিদ্ধান্ত, অর্থের গতিপথ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে দলীয় কাঠামোর সম্পর্ক কতটা প্রমাণিত হয়- তার ওপর।

কারণ অভিযোগের সংখ্যা একটি প্রবণতা দেখাতে পারে; কিন্তু একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক প্রমাণ করতে হলে প্রয়োজন আরও শক্ত, ধারাবাহিক ও স্বাধীন প্রমাণ।

-টিএস
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement