নিয়মিত প্রসাধনী বদলেও কমছে না ত্বকের ক্ষতিকারক র্যাশ ও প্রদাহ? পরিবেশবিদরা বলছেন, কেবল জীবনযাত্রার ভুল নয়—আপনার ত্বকের এই সমস্যার নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও পরিবেশ দূষণের কারণে দ্রুত রূপ পাল্টাচ্ছে ত্বকের নানা জটিল ব্যাধি।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব শুধু তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত বা পরিবেশেই সীমাবদ্ধ নয়—এর প্রত্যক্ষ ছাপ পড়ছে মানুষের ত্বকেও। কারণ, মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ ও বাহ্যিক পরিবেশের মধ্যে প্রথম সুরক্ষাবলয় হিসেবে কাজ করে ত্বক। ফলে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, সূর্যালোক ও দূষণের সংস্পর্শে সরাসরি আসে এই অঙ্গটি। সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে ত্বকের রোগের প্রকোপ ও তীব্রতার প্রত্যক্ষ যোগসূত্র রয়েছে।
ইউরোপিয়ান অ্যাকাডেমি অব ডার্মাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরিওলজি কংগ্রেস ২০২৬-এ উপস্থাপিত এক গবেষণায় পৃথিবীর ১৩৬টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে অংশ নেওয়া ৪২.৬ শতাংশ দেশই এই দাবির পক্ষে মতামত দিয়েছে।
গবেষণায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে হিট র্যাশের কথা। জলবায়ু-সম্পর্কিত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করা ৫৮টি দেশের মধ্যে ৮১ শতাংশ দেশেই হিট র্যাশ বৃদ্ধির তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৭৫.৯ শতাংশ দেশে প্রদাহজনিত ত্বকের সমস্যা বেড়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বাড়লে ঘাম এবং ত্বকের অস্বস্তি বাড়ে। অন্যদিকে অতিরিক্ত গরম ও বায়ুদূষণ ত্বকের প্রদাহ উসকে দেয়। আবার তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে গেলে মশা, টিক (কীটপতঙ্গ) ও অন্যান্য রোগবাহক প্রাণীর মাধ্যমে সংক্রামক ব্যাধি দ্রুত ছড়ায়।
তবে জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব সব দেশে সমান নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ৫৫.৬ শতাংশ এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ৫২.৫ শতাংশ জলবায়ু-সম্পর্কিত ত্বকের রোগ বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। বিপরীতে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে এই হার ৪৩.৮ শতাংশ এবং উচ্চ আয়ের দেশে মাত্র ২৮.৩ শতাংশ।
জনসচেতনতা
গবেষকদের মতে, ত্বকের স্বাস্থ্যঝুঁকিকেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রাথমিক প্রভাব হিসেবে গণ্য করা উচিত। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
সামগ্রিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ত্বকের যে ক্ষতি হচ্ছে, তা এককভাবে কারও পক্ষে ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে সচেতনতার অংশ হিসেবে রোদে বের হলে সরাসরি সূর্যালোক ও ধুলো-ধোঁয়া এড়িয়ে চলা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা এবং প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
এসএ