ওজন কমানোর কথা উঠলেই প্রথমে যে বিষয়টি মাথায় আসে, তা হলো ব্যায়াম। অনেকে মনে করেন, প্রতিদিন নিয়ম করে ব্যায়াম করলেই দ্রুত কমে যাবে শরীরের ওজন।
কিন্তু বাস্তবতা কিছুটা ভিন্ন। শরীরকে সুস্থ ও সক্রিয় রাখতে ব্যায়াম গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু ব্যায়ামের ওপর নির্ভর করে সব সময় ওজন কমানো সম্ভব নয়।
ব্যায়াম কেন একাই যথেষ্ট নয়?ওজন কমানোর ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে শরীর যত ক্যালরি খরচ করে, তার চেয়ে কম ক্যালরি গ্রহণ করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়ামের মাধ্যমে ক্যালরি খরচ হয় ঠিকই, তবে অনেক সময় ব্যায়ামে যতটা শক্তি খরচ হয়, খাবারের মাধ্যমে তার চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করা হয়ে যায়। ফলে কাঙ্ক্ষিত ওজন কমে না।
বিশেষ করে ব্যায়ামের পর অতিরিক্ত খাবার খেলে শরীরে আবার বেশি ক্যালরি জমা হতে পারে।
খাবারের দিকেও নজর দিতে হবেওজন নিয়ন্ত্রণে ব্যায়ামের পাশাপাশি খাবারের ধরন ও পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত চিনি, ভাজাপোড়া, মিষ্টি পানীয় ও বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার কমিয়ে শাকসবজি, ফল, প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে।
তবে ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকা বা হঠাৎ খুব কম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করা ঠিক নয়। এতে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ব্যায়ামের গুরুত্ব কোথায়?শুধু ওজন কমানো নয়, ব্যায়ামের আরও অনেক উপকার রয়েছে। নিয়মিত শরীরচর্চা পেশি শক্তিশালী করতে, দৈনন্দিন কর্মক্ষমতা বাড়াতে এবং হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। ওজন কমানোর পর তা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড গুরুত্বপূর্ণ।
হাঁটা, দৌড়ানো, সাইক্লিং, সাঁতার বা নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী অন্য কোনো ব্যায়াম নিয়মিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি সপ্তাহে কয়েক দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করলে পেশির সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।
ঘুম ও মানসিক চাপও গুরুত্বপূর্ণওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু খাবার ও ব্যায়াম নয়, ঘুম ও মানসিক চাপও বিবেচনায় রাখা দরকার। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ক্ষুধা ও খাবারের অভ্যাসে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ওজন কমানোর পরিকল্পনায় নিয়মিত ঘুম এবং মানসিকভাবে ভালো থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
লক্ষ্য হোক স্বাস্থ্যকর পরিবর্তনদ্রুত কয়েক কেজি ওজন কমানোর চেয়ে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করা বেশি কার্যকর। খাবারের পরিমাণ ও মানের দিকে নজর, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনন্দিন জীবনে সক্রিয় থাকার অভ্যাস- সবকিছুর সমন্বয়েই ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়।
ব্যায়াম ওজন কমানোর যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু ব্যায়াম করলেই ওজন কমবে- এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন, বয়স ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যাভ্যাস ও শরীরচর্চার পরিকল্পনা করাই ভালো।
-টিএস