কারও জীবনে প্রেম এসেছে, কেউ সম্পর্কে আছেন, কেউ সংসার করছেন। আবার কেউ নিজের ইচ্ছায় কিংবা পরিস্থিতির কারণে একাই জীবন কাটাচ্ছেন। কিন্তু সঙ্গী না থাকলেই কি একজন মানুষ একা? সম্পর্ক না থাকলেই কি জীবন অসম্পূর্ণ?
এই ধারণাগুলোকে একটু ভিন্নভাবে দেখার সুযোগ করে দেয় সিঙ্গেল দিবস। ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন জায়গায় সিঙ্গেলদের দিন হিসেবে পালনের প্রচলন রয়েছে। দিনটির মূল ভাবনা হলো- সম্পর্কে থাকা বা না থাকার বাইরে নিজের জীবন, পছন্দ, স্বাধীনতা এবং নিজের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া।
আমাদের সমাজে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিঙ্গেল মানুষদের প্রায়ই শুনতে হয়- ‘বিয়ে করছ না কেন?’, ‘কাউকে পছন্দ হয়নি?’ কিংবা ‘একা থাকবে কীভাবে?’ পরিবার, আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে বন্ধুদের আড্ডাতেও এমন প্রশ্ন অনেকের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে।
অথচ প্রত্যেকের জীবন এক নয়। কেউ ক্যারিয়ার গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত, কেউ ব্যবসা শুরু করেছেন, কেউ নিজের স্বপ্ন পূরণে ছুটছেন। আবার কেউ হয়তো অতীতের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে জীবন নতুন করে সাজাচ্ছেন। কারও ক্ষেত্রে সিঙ্গেল থাকা সম্পূর্ণ নিজের সিদ্ধান্তও হতে পারে।
তাই ‘সিঙ্গেল’ শব্দটির সঙ্গে শুধু ‘কাউকে পাওয়া যায়নি’- এমন ধারণা জুড়ে দেওয়ার কারণ নেই।
একা থাকা আর একাকিত্ব এক নয়একা থাকা এবং একাকিত্ব এক বিষয় নয়। একজন মানুষ সম্পর্কে থেকেও একাকী অনুভব করতে পারেন। আবার সিঙ্গেল একজন মানুষ পরিবার, বন্ধু ও নিজের পছন্দের কাজের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত থেকে পরিপূর্ণ জীবন কাটাতে পারেন।
নিজের সঙ্গে সময় কাটানোও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রিয় বই পড়া, সিনেমা দেখা, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, পছন্দের খাবার খাওয়া কিংবা কিছুক্ষণ নিরিবিলি থাকা- এসব ছোট ছোট মুহূর্তও আনন্দ দিতে পারে।
সম্পর্ক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে, কিন্তু নিজের মূল্য যেন শুধু কোনো সম্পর্কের ওপর নির্ভর না করে- সিঙ্গেল দিবসের আলোচনায় এই ভাবনাটিও গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যের জীবন দেখে নিজের সঙ্গে তুলনা নয়সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের বিয়ে, প্রেম কিংবা ‘কাপল গোল’ দেখতে দেখতে অনেকের মনে নিজের জীবন নিয়ে তুলনা তৈরি হতে পারে। মনে হতে পারে, সবাই যেন এগিয়ে যাচ্ছে, শুধু তিনিই পিছিয়ে আছেন।
কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা জীবন কখনোই পুরো জীবন নয়। সেখানে সাধারণত আনন্দের মুহূর্তগুলোই বেশি প্রকাশ পায়। তাই অন্যের সম্পর্কের ছবি দেখে নিজের জীবনকে অসম্পূর্ণ ভাবার প্রয়োজন নেই।
কারও জীবনে ভালোবাসা ২৫ বছর বয়সে আসতে পারে, কারও ৩৫-এ। কেউ দীর্ঘদিন সিঙ্গেল থাকার পর সম্পর্কে যেতে পারেন, আবার কেউ নিজের মতো করেই জীবন কাটাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারেন।
সিঙ্গেল দিবস কীভাবে কাটাবেন?এই দিন উদযাপনের জন্য বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া, নিজের পছন্দের কিছু করা কিংবা বহুদিনের কোনো শখে সময় দেওয়া-যেকোনো কিছুই হতে পারে।
চাইলে দিনটি একেবারেই নিজের জন্য রাখা যায়।
কারণ শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের পরিচয় শুধু তিনি সম্পর্কে আছেন কি না, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। তার রয়েছে নিজস্ব স্বপ্ন, পছন্দ, সাফল্য, ব্যর্থতা ও অসংখ্য গল্প।
সিঙ্গেল থাকা তাই সবসময় একাকিত্বের নাম নয়। কখনো এটি নিজের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার এবং নিজের জীবনকে নিজের মতো করে উপভোগ করার একটি সময়ও হতে পারে।