ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
লাখ টাকার দুই এক্স-রে মেশিন, ১৮ বছরেও মিলছে না সেবা
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাখ টাকা ব্যয়ে কেনা দুটি এক্স-রে মেশিন বছরের পর বছর অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে। এর মধ্যে একটি পুরোনো এনালগ এবং অন্যটি আধুনিক ডিজিটাল। যন্ত্রপাতি রয়েছে, রয়েছে আলাদা কক্ষ এবং প্রতিদিন প্রচুর রোগীও আসছেন; কিন্তু নেই শুধু একজন টেকনিশিয়ান। ফলে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে হাসপাতালটির এক্স-রে সেবা।

মেঘনা উপকূলের প্রায় চার লাখ মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল এই সরকারি হাসপাতাল। এমন পরিস্থিতিতে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বাইরের বেসরকারি ক্লিনিকে। সরকারি হাসপাতালে যেখানে নামমাত্র খরচে এক্স-রে করার সুযোগ থাকার কথা, সেখানে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে কয়েক গুণ অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। ফলে দরিদ্র উপকূলীয় মানুষের চিকিৎসাব্যয় বাড়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে উপকূলীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরে রোগীর চাপ বিবেচনায় ২০১৫ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।

এর আগে ২০০২ সালে হাসপাতালে প্রথম এনালগ এক্স-রে মেশিনটি স্থাপন করা হয়েছিল। কয়েক বছর সেবা পাওয়ার পর ২০০৭ সালে সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ান বদলি হয়ে চলে গেলে বন্ধ হয়ে যায় এর কার্যক্রম। এরপর টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও জনবল সংকট দূর হয়নি।

পরবর্তীতে ২০২০ সালের শেষ দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাসপাতালে একটি আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়। লাখ টাকা মূল্যের এই যন্ত্রটি নির্ধারিত কক্ষে যথাযথভাবে স্থাপন করা হলেও এটি চালানোর জন্য কোনো টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে পুরোনো এনালগ মেশিনের সঙ্গে নতুন ডিজিটাল মেশিনটিও এখন অযত্নে অব্যবহৃত পড়ে রয়েছে।

দুর্ঘটনায় পা ভেঙে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মো. দিদার ও আবু সায়েদ জানান তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। চিকিৎসক এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও হাসপাতালের মেশিন বন্ধ থাকায় তাদের বাধ্য হয়ে বাইরের ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতালে এসেও অতিরিক্ত টাকা গুণতে হয়েছে তাদের।

চরপাগলা গ্রাম থেকে আসা রোগী সৈয়দ আহাম্মদ বলেন, “দুর্ঘটনায় বুকে আঘাত পাওয়ার পর এক্স-রে করানোর প্রয়োজন হয়। হাসপাতালে এই সুবিধা চালু না থাকায় বাধ্য হয়ে কষ্ট করে জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “হাসপাতালে দুটি এক্স-রে মেশিনই সচল রাখার মতো অবস্থা আছে, কিন্তু মূল সমস্যা টেকনিশিয়ান না থাকা। টেকনিশিয়ান নিয়োগের জন্য আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার লিখিত তাগিদ ও চিঠি পাঠিয়েছি।”

সরকারি বাজেটে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে আনা দুটি মেশিন হাসপাতালে থাকলেও তার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপকূলের সাধারণ মানুষ। দ্রুত টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে মেশিন দুটি সচল করার পাশাপাশি বন্ধ থাকা এক্স-রে সেবা চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সালমান ইমন/এসএ
Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement