নেত্রকোনার পূর্বধলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়ে সংঘর্ষ, হামলা ও মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির করা মামলায় জামায়াতে ইসলামীর ২৫ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। তাঁদের মধ্যে পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. জয়নাল আবেদীনও রয়েছেন।
বুধবার জামিনের জন্য আদালতে হাজির হলে নেত্রকোনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাজিবুল হাসানের আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আবুল হাসেম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে দিবাগত রাতে পূর্বধলা থানায় মামলাটি করেন উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের জটিয়াবর গ্রামের বাসিন্দা ও ৭ নম্বর আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি মো. উমর শরীফ (৩৪)।
এজাহারে বলা হয়, গত ২০ মে বিকেলে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রম শেষে মোটরসাইকেলে করে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন উমর শরীফ। বিকেল ৩টার দিকে আগিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একদল লোক তাঁর পথরোধ করে হামলা চালায়।
মামলায় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. জয়নাল আবেদীনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজুয়ানুর রহমান রনি, পূর্বধলা সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম বাবুলসহ মোট ৩৩ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলার সময় উমর শরীফের সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে ব্যবসার ২ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁর ব্যবহৃত টিভিএস স্ট্রাইকার মোটরসাইকেলে পেট্রোল বোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত উমর শরীফকে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মামলাটিকে মিথ্যা দাবি করে বলেন, “আমরা এই মামলার আইনিভাবে মোকাবিলা করব। আশা করি আদালত দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহারসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মোঃএমদাদুল ইসলাম/ এফএস