চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা ছিল এখানে। অথচ দীর্ঘ ১২ বছর ধরে চিকিৎসক-নার্স নেই, নেই নিয়মিত ওষুধ সরবরাহও। ফলে সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন কার্যত পরিত্যক্ত।
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের শান্তিরহাট বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটির বর্তমান চিত্র এমনই।
দীর্ঘদিন অচল থাকায় ভবনের চারপাশে গড়ে উঠেছে জঙ্গল। বেড়েছে সাপ ও বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব। অন্যদিকে সংস্কার ও পরিচর্যার অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটিও। দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল, কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসা নিতে এসে নিয়মিতই ফিরে যেতে হচ্ছে খালি হাতে। জরুরি প্রয়োজনে ছুটতে হচ্ছে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল কিংবা পাশের জেলা নোয়াখালীর বিভিন্ন হাসপাতালে। এতে বাড়ছে সময় ও অর্থের খরচ, ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা তোফায়েল আহমেদ বলেন, একসময় এই কেন্দ্র থেকে মানুষ চিকিৎসাসেবা পেতেন। এখন চিকিৎসক, নার্স ও ওষুধ না থাকায় সেবা মিলছে না। দ্রুত কেন্দ্রটি সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ করে চিকিৎসা সেবা চালুর দাবি জানান তিনি।
আরেক বাসিন্দা মাহবুবর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় কেন্দ্রের চারপাশ জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। ভবনের দেয়াল ও পলেস্তারা খসে পড়ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি পরিবর্তনে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুল হাসান জানান, কুশাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ইতোমধ্যে একজন মেডিকেল অফিসার পদায়ন করা হয়েছে। শিগগিরই একজন নার্স যোগ দেবেন এবং ওষুধও সরবরাহ করা হবে।
তিনি আরও জানান, লক্ষ্মীপুরের আটটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কুশাখালী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রেও নির্মাণ করা হবে তিনতলা নতুন ভবন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পরিকল্পনা আর আশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় জনবল-ওষুধ নিশ্চিত করা হবে। ফিরবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসাসেবা।
সালমান ইমন/এসএ