দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দেশীয় সক্ষমতার আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড (কেএসওয়াই)। পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য দেশীয় প্রযুক্তি, প্রকৌশল জ্ঞান ও দক্ষ জনবলের সমন্বয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন আধুনিক টাগবোট ‘টিয়াখালী-৪’।
সোমবার খুলনা শিপইয়ার্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে টাগবোটটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. আব্দুল লতিফ। এ সময় কেএসওয়াই ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য ৭০ টন বোলার্ড পুল ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি টাগবোট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় টাগবোট হিসেবে ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের ন্যাভনটিক প্রাইভেট লিমিটেডের নকশায় এবং আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান ব্যুরো ভেরিতাসের তত্ত্বাবধানে এটি নির্মাণ করা হয়।
৩৭ মিটার দীর্ঘ টাগবোটটির ধারণক্ষমতা ১ হাজার ১০০ টন এবং গভীরতা ৫ মিটার। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৩ দশমিক ৮ নট। এতে আধুনিক ‘জেড-ড্রাইভ’ চালনা ব্যবস্থা রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে পায়রা বন্দরে জাহাজের নোঙর করা, নোঙর তুলে বের করা, টেনে নেওয়া এবং দিক পরিবর্তন ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে টাগবোটটি।
শুধু বন্দরের নিয়মিত কার্যক্রম নয়, বহুমুখী সামুদ্রিক কাজেও ব্যবহার করা যাবে ‘টিয়াখালী-৪’। এতে রয়েছে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান, পানির নিচে জরিপ, ডুবে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত নৌযান উদ্ধারের কাজ, প্রতিকূল আবহাওয়ায় সমুদ্রে চলাচল এবং নৌযানের চালক পরিবহনেও এটি ব্যবহার করা যাবে।
খুলনা শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে কেএসওয়াই ৮০০টির বেশি নতুন জাহাজ নির্মাণ এবং ২ হাজার ৫০০টির বেশি জাহাজ মেরামত করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘টিয়াখালী-৪’ নির্মাণ দেশের জাহাজ নির্মাণ শিল্পে কারিগরি সক্ষমতা ও দেশীয় দক্ষতার আরেকটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে টাগবোটটি পায়রা বন্দরের সামুদ্রিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি দেশের সামুদ্রিক অবকাঠামো ও নীল অর্থনীতির বিকাশেও ভূমিকা রাখবে।
সৈকত মোঃ সোহাগ / এফএস