পানির ওপর হঠাৎ ভেসে উঠল ছোট্ট এক মুখ। কয়েক মুহূর্ত পরই মায়ের শরীরের আড়ালে মিলিয়ে গেল। বেষ্টনীর কাছে মানুষের উপস্থিতি টের পেতেই গভীর পানিতে ডুব। আবার কখনো মায়ের সঙ্গে ডাঙায় উঠে ক্ষণিকের জন্য দেখা দিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে জলাধারের পানিতে। গাজীপুর সাফারি পার্কে নতুন অতিথিকে ঘিরে এখন চলছে এমনই এক মজার লুকোচুরি।
জলহস্তি পরিবারের এই নতুন সদস্যের আগমনে পার্কে বেড়েছে জলহস্তির সংখ্যাও। নতুন শাবকসহ বর্তমানে গাজীপুর সাফারি পার্কে জলহস্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচটিতে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানান গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘মাঝে মধ্যে শাবক নিয়ে মা জলহস্তি বেষ্টনীর ভেতরে ডাঙায় উঠে আসছে। আমরা তাদের দেখতে দ্রুত বেষ্টনীতে গেলে আবার গভীর পানিতে ডুবে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে জলাধারের কোথাও সামান্য ভেসে উঠেই আবার হারিয়ে যাচ্ছে। যেন সে আমাদের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে।’
শাবকটির জন্মের সঠিক তারিখ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পার্ক কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করেই মা জলহস্তির সঙ্গে পানির ভেতর থেকে শাবকটিকে ডাঙায় উঠে আসতে দেখা যায়। এরপর থেকেই নতুন অতিথিকে ঘিরে বাড়তি নজরদারি শুরু হয়েছে।
তারেক রহমান জানান, এখনো শাবকটির লিঙ্গ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এটি নিশ্চিত করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে শাবকটিকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মা ও শাবকের প্রয়োজনীয় যত্নের পাশাপাশি তাদের বাড়তি খাবারও দেওয়া হচ্ছে।
পার্ক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পানির ভেতরেই বেশি সময় কাটাচ্ছে ছোট্ট শাবকটি। ফলে দর্শনার্থীদের চোখে তার দেখা মিলছে খুব অল্প সময়ের জন্য। কখনো মায়ের পাশে ভেসে ওঠা, কখনো ডাঙায় কয়েক মুহূর্তের উপস্থিতি-এইটুকুই এখন নতুন অতিথিকে দেখার সুযোগ। আর তাতেই জলহস্তির বেষ্টনীতে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।
আরএস/এসএস