গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার চর ভাটি বুড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের জন্য প্রধান শিক্ষকসহ মোট ছয়টি শিক্ষকের পদ রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র দুজন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। ফলে একজন সহকারী শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির পাঠদান সামলাতে হচ্ছে। এতে শ্রেণিভিত্তিক নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের আলাদা করে দেখভাল এবং নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ করা নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী ২০০৯ সালের পর থেকে একসঙ্গে দুইজনের বেশি সহকারী শিক্ষক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন না। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ একজন সহকারী শিক্ষক কর্মরত আছেন। প্রয়োজনের তুলনায় শিক্ষক সংখ্যা কম হওয়ায় পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষককে একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হওয়ায় প্রত্যেক শ্রেণিতে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষক সংকটের বিষয়টি দীর্ঘদিনের। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তাদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে কমসংখ্যক শিক্ষক দিয়েই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালিয়ে নিতে হচ্ছে।
অভিভাবক জুরান আলী বলেন, শিক্ষক সংকটের কারণে সন্তানদের লেখাপড়া ঠিকমতো হচ্ছে না। একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিক্ষার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
অভিভাবক সায়েদ মিয়াসহ কয়েকজন বলেন, চরাঞ্চলের অনেক পরিবারের সন্তান এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। এসব পরিবারের অনেকের পক্ষেই সন্তানদের অন্যত্র নিয়ে পড়ানো সম্ভব নয়। তাই বিদ্যালয়ে দ্রুত শিক্ষক সংকটের সমাধান করা প্রয়োজন।
স্থানীয় অভিভাবকদের বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের মান নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থার দ্রুত অবসান না হলে প্রাথমিক পর্যায়েই অনেক শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়তে পারে।
শিক্ষক সংকট নিরসনে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও উদ্যোগ নিয়েছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আতাউর রহমান প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী শিক্ষক পদায়নের দাবিতে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে বিদ্যালয়ের শূন্য পদ পূরণের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত শিক্ষক দেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বলেন, বিদ্যালয়টির শিক্ষক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে শিক্ষক দিয়ে নয়, বিদ্যালয়ের অনুমোদিত পদ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করা হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান সম্ভব হবে। চরাঞ্চলের এই বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা অভিভাবক ও স্থানীয়দের।
এসএ