গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জে লোকালয়ে ঢুকে কুকুর ও শিয়ালের ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ২৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে কুকুরের কামড়ে সাদুল্লাপুরে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নয়জনকে কামড়ানো একটি শিয়ালের নমুনায় র্যাবিস ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামের সোনারপাড়ায় একটি শিয়াল লোকালয়ে ঢুকে এক দম্পতিসহ পাঁচজনকে কামড় ও আঁচড় দিয়ে আহত করে।
২০ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা এলাকায় একটি শিয়ালের হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজন শিশু। শিয়ালের হামলায় দুটি গরুও আহত হয়।
পরে প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে শিয়ালটির মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলে তাতে র্যাবিস ভাইরাস শনাক্ত হয়। এর একদিন পর, ২১ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুরের উত্তর হাটবামুনী গ্রামে কুকুরের কামড়ে সাত বছরের সিনথিয়া আক্তার মারা যায়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মাজহারুল মাজেদ বাবু জানান, কুকুরটি শিশুটির গলায় কামড় দিলে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই কুকুরের কামড়ে রাকিব হোসেন নামে আরও একজন আহত হন।
এদিকে ২৬ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে একটি কুকুরের হামলায় শিশুসহ আরও আটজন আহত হন। একই ঘটনায় দুটি গরু ও চারটি ছাগল আক্রান্ত হয়। পরে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলেন। এসব ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের একটি পর্যবেক্ষণ দলও মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, অস্বাভাবিক আচরণ করা কুকুর বা শিয়ালের কাছে যাওয়া, ধরার চেষ্টা করা কিংবা তাড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কামড় বা আঁচড়ের শিকার হলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে। গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান জানান, আক্রান্ত এলাকার তথ্য সংগ্রহ করে প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিনি জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এসএস