ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
গাজায় বিক্রি হচ্ছে মেয়েরা !!
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৪ পিএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

যুদ্ধ দুর্ভিক্ষ বাস্তুচ্যুতি ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার মধ্যে গাজায় নারী ও মেয়েরা জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)। এমনকি ধর্ষণের শিকার নারীদের সামাজিক কলঙ্ক এড়াতে কথিত ধর্ষণকদের সঙ্গেও বিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে বলে সংস্থাটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ইউএনএফপিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহের নথিভুক্ত ঘটনা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১২৩ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটি এ প্রবণতাকে তীব্র অবনতি হিসেবে বর্ণনা করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত গাজাজুড়ে জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহের ঘটনায় ১২৩ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে। তীব্র ক্ষুধা, দারিদ্র্য, আয়হীনতা ও স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার মধ্যে পরিবারগুলো টিকে থাকার জন্য চরম চাপের মুখে পড়েছে। দশটি সংস্থার কাছ থেকে সংগ্রহ করা তথ্য এবং গাজা সিটি ও খান ইউনিসের বাস্তুচ্যুত শিবিরে বসবাসকারী ২৩০ নারীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

খান ইউনিসে সাক্ষাৎকার দেওয়া এক নারী জানান, গত বছরের দুর্ভিক্ষের সময় এক ব্যক্তি তার ১৪ বছর বয়সী মেয়েকে দুই বস্তা আটার বিনিময়ে বিয়ে দিয়েছিলেন। এতে তিনি নিজের ও অন্য সন্তানদের খাবারের ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন।

বিভিন্ন বাস্তুচ্যুত শিবিরে সাক্ষাৎকার দেওয়া আরও ছয় নারী একই ধরনের বিনিময়ের কথা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, যুদ্ধের আগে এ ধরনের ঘটনা কল্পনাও করা যেত না।

একটি স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন স্থানে সাক্ষাৎকার দেওয়া এক নারী জানান, ধর্ষণের শিকার নারীদের সামাজিক কলঙ্ক ও কেলেঙ্কারি এড়াতে কখনও কখনও কথিত ধর্ষণকারীদের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। তার দাবি, স্কুলে ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পরের দিনই সেখানে বিয়ে ও অনুষ্ঠান আয়োজন করতে দেখা গেছে।

যুদ্ধে বাবা-মা হারানো মেয়েরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। গাজা সিটির একটি শিবিরে সাক্ষাৎকার দেওয়া এক নারী জানান, তার পরিবারের ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী দুই মেয়েকে বাবা-মা নিহত হওয়ার পর তাদের চাচারা বিয়ে দিয়ে দেন।

ইউএনএফপিএ বলছে, গাজায় বাল্য ও জোরপূর্বক বিয়ের এই বৃদ্ধি সেখানে জীবনযাত্রার সামগ্রিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট, দারিদ্র্য ও সরকারি অবকাঠামো ধ্বংসের কারণে নারী ও শিশুদের সুরক্ষার প্রচলিত ব্যবস্থাগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে।

ফিলিস্তিনে ইউএনএফপিএর প্রতিনিধি নেস্টর ওউমুহাঙ্গি এসব প্রবণতাকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, বছরের পর বছর সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির কারণে সামাজিক কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়েছে। ইউএনএফপিএর বিশ্লেষণে ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী মেয়েদের বাল্যবিবাহের আওতায় ধরা হয়েছে। যুদ্ধের আগে গাজায় অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুলনায় বাল্যবিবাহের হার বেশি থাকলেও তা কমছিল। যুদ্ধের পর সেই অগ্রগতি কিছুটা উল্টে গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে যৌন সহিংসতার ঘটনাও বেড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত নথিভুক্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ২ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মতো ঘটনা। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। একই সময়ে নথিভুক্ত যৌন সহিংসতার মোট ঘটনা ৬১ শতাংশ বেড়েছে।

তবে ইউএনএফপিএ সতর্ক করেছে, এসব সংখ্যা গাজায় যৌন সহিংসতার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে না। সামাজিক কলঙ্ক, প্রতিশোধের ভয় এবং গোপনীয়ভাবে অভিযোগ ও সহায়তা পাওয়ার সীমিত সুযোগের কারণে এ ধরনের ঘটনা ব্যাপকভাবে নথিভুক্ত হয় না। শনাক্ত হওয়া ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী নারীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এরপর রয়েছে কিশোরী মেয়ে ও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ।

সূত্র: ইান্ডিয়া টুডে

টিআইএস

Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement