যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে ২৪৫ কোটি মার্কিন ডলারের একটি ছয় মাসের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শান্তি পরিষদ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার নিউইয়র্কে পরিষদের বৈঠকে পরিকল্পনাটি প্রকাশ করা হয়। এতে গাজার অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্গঠনের জন্য ৬৬টি প্রকল্প রাখা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাজার ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, হাসপাতাল, পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে অর্থ ব্যয় করা হবে।
গাজায় তাঁবুতে বসবাস করা বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য উত্তাপ নিরোধক অস্থায়ী ঘর তৈরির বিষয়টিও পরিকল্পনায় রয়েছে। ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত অস্ত্র সরানোর জন্যও বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পরিকল্পনার একটি বড় অংশ নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বহুজাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠন ও মোতায়েন এবং স্থানীয় পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সংগঠিত করার জন্য অর্থ ব্যয়ের কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া গাজার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত পুনর্গঠন, ছোট ও মাঝারি ব্যবসা পুনরায় চালু করা এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
গাজার প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের জন্য পরিচয়পত্র, ডিজিটাল অর্থ লেনদেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
শান্তি পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, গাজায় যুদ্ধের কারণে অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫২০ কোটি মার্কিন ডলার। পুরো গাজা পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আগামী ১০ বছরে প্রায় ৭১৪০ কোটি ডলার প্রয়োজন হতে পারে।
তবে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি, সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসের অস্ত্র ত্যাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, গাজা পুনর্গঠন দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। শান্তি পরিষদের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের বিলম্ব ও রাজনৈতিক জটিলতা রয়েছে।
শান্তি পরিষদের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গাজার পুনর্গঠন হবে ফিলিস্তিনিদের নেতৃত্বে এবং ফিলিস্তিনি প্রশাসনের মাধ্যমে। তবে পুরো ২৪৫ কোটি ডলারের অর্থ এখনো নিশ্চিত হয়নি। দাতা দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের ওপর পরিকল্পনাটির বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে।
এফএস