যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের সমর্থকদের আধিপত্য ভেঙে দিয়েছে এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনেছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, জাতীয় প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে দেয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসি এসব কথা বলেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে শেষ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যেতে হবে এবং এ অঞ্চলকে ‘তাদের নিন্দনীয় ও অপরাধমূলক উপস্থিতি থেকে মুক্ত করার বিষয়টি মেনে নিতে হবে’।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের সমর্থকদের ‘দুর্বল আধিপত্য ভেঙে দিয়েছে’ এবং ‘অঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থায় নতুন কাঠামো তৈরি করেছে’।
এদিকে আমদানি সহজ করতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানি-জাদেহ। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার’ সক্ষমতা তৈরি করাই চলমান এসব আলোচনার লক্ষ্য।
এছাড়া ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে ইরানের বিমান সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলের সুযোগ কার্যত হারাতে পারে।
অন্যদিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহত হওয়ার ঘটনাকে ‘অনিচ্ছাকৃত ও আকস্মিক’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ।
তিনি বলেছেন, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের সমালোচনা করবেন। এর আগে জাতিসংঘের অনুমোদিত এক তদন্তে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর সময় ইরানে দুটি হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধাপরাধ করে থাকতে পারে।
নিউইয়র্ক পোস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ বলেন, ‘আমাদের হামলায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হলেও—আমি বলছি না যে এমনটি ঘটেছে; পেন্টাগন এখনো বিষয়টি তদন্ত করছে, তবে এমন ঘটনা হলে সেটি অনিচ্ছাকৃত এবং সংঘাতের অংশ হিসেবে আকস্মিকভাবে ঘটে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি ইরানের শাসকগোষ্ঠীর মতো নয়, যারা তিন-চার দিনের মধ্যে নিজেদের ৪০ হাজার মানুষকে মেশিনগান দিয়ে হত্যা করেছে।’
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে জমা দেয়া এক প্রতিবেদনে ইরানবিষয়ক একটি তথ্য অনুসন্ধানী মিশন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একটি স্কুল ও ক্রীড়া কেন্দ্রে বেআইনিভাবে হামলা চালিয়েছে। ওই হামলায় ১২০ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসএফ