জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব হওয়ার দৌড় থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল বাশেলেট। এর ফলে জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথম নারী মহাসচিব হওয়ার তার প্রচেষ্টা শেষ হলো।
৭৪ বছর বয়সী বাশেলেট ১৯ সেপ্টেম্বর এক ভিডিও বার্তায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, এই ‘বড় চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি অনুতপ্ত নন। তবে তিনি যে ধরনের প্রার্থিতার প্রতিনিধিত্ব করতে চেয়েছিলেন, তার জন্য হয়তো ‘সময়টা উপযুক্ত ছিল না’।
প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তৃতীয় অনানুষ্ঠানিক ভোটে বাশেলেট মাত্র ১টি ‘উৎসাহ’ ভোট পান। বিপরীতে তার বিরুদ্ধে ১১টি ‘নিরুৎসাহ’ ভোট পড়ে এবং ৩টি ভোটে কোনো মতামত জানানো হয়নি।
এর আগে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম ভোটে তিনি ৬টি এবং আগস্টের দ্বিতীয় ভোটে ২টি ‘উৎসাহ’ ভোট পেয়েছিলেন।
তৃতীয় দফার ভোটে কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান ৯টি ‘উৎসাহ’ ভোট নিয়ে এগিয়ে ছিলেন। গায়ানার ক্যারোলিন রদ্রিগেস-বিরকেট পান ৮টি।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে চিলি, ব্রাজিল ও মেক্সিকো যৌথভাবে বাশেলেটকে জাতিসংঘ মহাসচিব পদে মনোনয়ন দেয়।
তবে পরবর্তী সময়ে চিলির রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে তার প্রার্থিতার প্রতি নিজ দেশের সমর্থন দুর্বল হয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিলির নতুন প্রেসিডেন্ট হোসে আন্তোনিও কাস্ত বাশেলেটের প্রতি দেশটির সমর্থন প্রত্যাহার করেন।
বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
তার উত্তরসূরি নির্বাচনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রার্থীকে সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করতে নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত ৯টি ভোট প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের। কোনো একটি দেশের ভেটো এড়াতে হবে। এরপর সাধারণ পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের মাধ্যমে নতুন মহাসচিব নির্বাচিত হবেন।
এখনও কোনো নারী জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। একইভাবে ১৯৮২ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েলার দায়িত্ব পালনের পর আর কোনো লাতিন আমেরিকান এই পদে আসেননি।
এফএস