গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘বাধ্যতামূলক’ চুক্তিতে পৌঁছেছে ডেনমার্ক। তবে চুক্তির ফলে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব বা ডেনমার্কের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন হবে না বলে জানিয়েছে কোপেনহেগেন ও গ্রিনল্যান্ড।
ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন শনিবার বলেন, চুক্তিটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করবে। আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে চুক্তিটি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। তবে এর জন্য ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় ওয়াশিংটন ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সংবেদনশীল খাতে বিনিয়োগ করতে পারবে না। ওয়াশিংটন সেখানে সামরিক উপস্থিতিও বাড়াতে চায়।
তবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পরিধি এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত কোনো ক্ষমতা পাবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেছেন, চুক্তিতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের মতে, এটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে ন্যাটোর নিরাপত্তা জোরদার করবে।
গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই অঞ্চলটির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। ১৯৫১ সালের একটি চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিরও ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
এফএস