‘চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। এতগুলো গবাদিপশু হারিয়ে এখন কীভাবে সংসার চালাব, জানি না।’—এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের চৌবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. দবিবুর রহমান।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে কয়েলের আগুন থেকে গোয়ালঘরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর পাঁচটি গরু ও সাতটি ভেড়া পুড়ে মারা গেছে। এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থানীয়রা জানান, রাতে সবাই যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন গোয়ালঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, জ্বলন্ত কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তের মধ্যেই তা গোয়ালঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ততক্ষণে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করায় গোয়ালঘরের ভেতরে থাকা গবাদিপশুগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগী দবিবুর রহমান বলেন, গবাদিপশুগুলোই ছিল তাঁর পরিবারের অন্যতম অবলম্বন। এগুলোকে ঘিরেই সংসারের আয়-রোজগারের ব্যবস্থা চলত। এক রাতের আগুনে তাঁর সেই শেষ সম্বলটুকুও শেষ হয়ে গেছে। প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ায় এখন পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো সামর্থ্যও তাঁর নেই বলে জানান তিনি। সর্বস্ব হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার অপেক্ষায় থাকা পরিবারটি এখন সহায়তার আশায় তাকিয়ে আছে।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী শরিফুল ইসলাম জানান, একটি অসহায় পরিবারের জীবিকার অবলম্বন এভাবে আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।
অগ্নিকাণ্ডের পর সকালে ঘটনাস্থলে গেলে পুড়ে যাওয়া গোয়ালঘর ও ছাইয়ের স্তূপ পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে পড়ে থাকা গবাদিপশুর অবশিষ্টাংশ দেখে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
এসএ/আরএন