বাগেরহাটের ফকিরহাটে আমন ধানের ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকা শনাক্ত ও দমনে মাঠে মাঠে ‘আলোক ফাঁদ’ স্থাপন করেছে উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলার আটটি ইউনিয়নের ২৪টি ব্লকে ২৫০ জন কৃষক এ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। সন্ধ্যার পর আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে বিভিন্ন পোকা ফাঁদে আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। এতে ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি শনাক্তের পাশাপাশি কমছে বালাইনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচ।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আমন ক্ষেতে মাজরা পোকাসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে উপজেলার সব ইউনিয়নের সব ব্লকে একযোগে আলোক ফাঁদ স্থাপন করা হয়েছে। ফাঁদে ধরা পড়া পোকা পর্যবেক্ষণ করে আক্রমণের ধরন ও মাত্রা সম্পর্কে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে ফকিরহাটে উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ব্রি-১০৩, ব্রি-৯৫, ব্রি-৯৩ ও ব্রি-৮৭ জাত রয়েছে। এ বছর উপজেলায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।
পোকার আক্রমণ দমনে আলোক ফাঁদের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ‘পার্চিং’ পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। বিভিন্ন জমিতে গাছের ডাল, বাঁশের আগা ও বাঁশের কঞ্চি পুঁতে দেওয়া হয়েছে। এসব স্থানে পাখি বসে ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে ফেলায় পোকার প্রাদুর্ভাব কমছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
বাহিরদিয়া ইউনিয়নের কৃষক শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিনি এক একর জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে প্রথম বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এবার ধান রোপণে কিছুটা দেরি হয়েছে। জমিতে পোকার উপস্থিতি দেখা গেলেও আলোক ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহারের পর ক্ষতিকর পোকামাকড়ের প্রাদুর্ভাব কমেছে। এতে বালাইনাশকের ব্যবহার ও উৎপাদন খরচও কমেছে।
নলধা ইউনিয়নের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে জমিতে আলোক ফাঁদ ও গাছের ডাল পুঁতে দেওয়ার পর ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ কমেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আলোক ফাঁদের মাধ্যমে ক্ষেতে থাকা পোকা শনাক্ত করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকা দমন, কৃষকদের ব্যয় হ্রাস ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে কৃষি বিভাগ চাষিদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।”
এএ/আরএন