ভোরের ঘাসে শিশির, বিকেল নামতেই কুয়াশার আবছা পর্দা, ধানখেতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঠান্ডা বাতাস আর চা-বাগানের সবুজ পাতায় মুক্তোর মতো ঝলমলে জলকণা—প্রকৃতির এমন বদলে যাওয়া দৃশ্য জানান দিচ্ছে, চায়ের রাজ্য মৌলভীবাজারে হেমন্তের আবেশ ছড়িয়ে পড়েছে। আর হেমন্তের হাত ধরে দরজায় কড়া নাড়ছে শীত।
কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের গ্রামীণ জনপদ, চা-বাগান, পাহাড়ি এলাকা ও মেঠোপথে এখন ঋতু পরিবর্তনের স্পষ্ট ছাপ। শেষরাত ও ভোরে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। অনেকেই বের করছেন হালকা কম্বল, চাদর ও শীতের পোশাক। তবে দিনের বেলায় নরম রোদের উষ্ণতায় শীত এখনো পুরোপুরি জেঁকে বসেনি।
ভোরের আলো ফুটতেই চা-বাগানের সারি সারি পাতায় জমে থাকা শিশির সূর্যের আলোয় ঝিকমিক করে ওঠে। ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলোকে দূর থেকে মনে হয়, মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মুক্তাদানা। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সূর্যের উঁকি দেওয়া আর ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকা নরম রোদ তৈরি করছে এক মায়াবী পরিবেশ।
কমলগঞ্জের মাধবপুর, রহিমপুর, বালিগাঁও, মাগুরছড়া ও বিভিন্ন খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় কুয়াশা তুলনামূলক আগে নামছে বলে জানান স্থানীয়রা। বিকেল গড়াতেই ধানখেত ও মেঠোপথে নেমে আসছে আবছা কুয়াশা। গঙ্গাফড়িংয়ের উড়াউড়ি, ভোরের পাখির ডাক আর শিশিরভেজা ঘাস মিলিয়ে গ্রামীণ প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজেছে।
হেমন্তের এই বদল শুধু প্রকৃতিতেই নয়, ব্যস্ততা বাড়িয়েছে কৃষকের মাঠেও। কমলগঞ্জের আদমপুর, ইসলামপুর, রানীবাজার, ঘোড়ামারা, মাধবপুর, মাঘমাড়া, বালিগাঁও, পতনঊষার ও শমসেরনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি। জমি তৈরির পাশাপাশি কোথাও বীজ বপন, কোথাও আবার চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষকেরা। শিম, লালশাক, টমেটো, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলাসহ নানা সবজির আবাদ ঘিরে তাঁদের চোখ এখন ভালো ফলনের দিকে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী মো. জিল্লুর রহমান তামিমের ভাষায়, ‘হেমন্ত মানেই শীত শীত ভাব। ভোরে ঘাস ভেজা থাকে, ঠান্ডা বাতাস লাগে। চাদর গায়ে দিতে হয়। প্রকৃতিটাই যেন বদলে যায়।’
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের চা-বাগানগুলোতে এই ঋতুর সৌন্দর্য যেন আরও বেশি স্পষ্ট। পাহাড়ের ঢাল, সবুজ চা-গাছের সারি আর কুয়াশায় ঢাকা পথ মিলে তৈরি করছে মন ছুঁয়ে যাওয়া দৃশ্য। দিনের আলো বাড়ার সঙ্গে কুয়াশা সরে গেলেও প্রকৃতিতে থেকে যাচ্ছে সতেজতার ছাপ।
সব মিলিয়ে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে এখন হেমন্ত ও শীতের সন্ধিক্ষণ। একদিকে শিশিরভেজা ঘাস ও কুয়াশার কোমলতা, অন্যদিকে মাঠে কৃষকের ব্যস্ততা—সবকিছু মিলিয়ে প্রকৃতি যেন নীরবে বলে দিচ্ছে, হেমন্ত এসেছে; তার হাত ধরেই খুব শিগগিরই শীত নামবে চায়ের রাজ্যে।
এসএস/আরএন