বন্ধুদের সঙ্গে সৈকতে ফুটবল খেলার আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো বিষাদে। ভেসে যাওয়া ফুটবল আনতে সাগরে নেমে স্রোতের টানে তলিয়ে যান কিশোরগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসা পর্যটক সীমান্ত। নিখোঁজের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের গ্রিন নেচার পয়েন্টসংলগ্ন সাগর থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত সীমান্ত কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন।
জেলা প্রশাসনের বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মো. মাহাবুব আলম জানান, কিশোরগঞ্জ থেকে আসা নয় বন্ধুর একটি দল কলাতলী এলাকার একটি হোটেলে ওঠে। শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁরা গ্রিন নেচার পয়েন্টসংলগ্ন সৈকতের বালুচরে ফুটবল খেলছিলেন। একপর্যায়ে বলটি ভেসে সাগরের পানিতে চলে গেলে তা আনতে তিন বন্ধু সীমান্ত, মোয়াজ ও তুর্য পানিতে নামেন। মুহূর্তেই জোয়ারের ঢেউ ও তীব্র স্রোতে তিনজনই বিপাকে পড়েন।
ঘটনা দেখতে পেয়ে অপর বন্ধুরা ও বিচকর্মীরা দ্রুত এগিয়ে যান। প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে মোয়াজ ও তুর্যকে জীবিত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে সীমান্ত পানিতে নিখোঁজ হন।
খবর পেয়ে বিচকর্মী, লাইফগার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও ট্যুরিস্ট পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নিখোঁজের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি সাগরে সীমান্তের মরদেহ ভেসে উঠলে সেটি উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বিকেল ৫টার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাগরে নামায় নিষেধাজ্ঞা এবং লাইফগার্ড সেবা বন্ধ থাকার পরও পর্যটকরা তা উপেক্ষা করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে সী সেফ লাইফগার্ড সংস্থা।
সী সেফ লাইফগার্ডের সুপারভাইজার মো. ওসমান জানান, সন্ধ্যার পর সাগরে গোপন চ্যানেল ও গভীর খাদ তৈরি হয়। আলো কমে যাওয়ায় এগুলো দেখা যায় না। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পর্যটকরা পানিতে নামায় ঝুঁকি বাড়ে।
সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের সাড়ে আট মাসে কক্সবাজার সৈকতে পানিতে নেমে আট পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ১৩০ জনকে।