টাঙ্গাইলের সখীপুরে মায়ের উপুর্যুপরি ছুরিকাঘাতে মো. আশরাফুল (৩ বছর ৬ মাস) নামের এক শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিশুর বড় বোন সিরজাতুন (৯) গুরুতর আহত হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের খালিয়ারবাইদ দেবরাজ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুল ও আহত সিরজাতুন ওই এলাকার মো. শাহীন মিয়ার সন্তান। অভিযুক্ত আকলিমা আক্তার শাহীন মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং শিশু দুটির মা। শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী নাসিমা আক্তার। অভিযুক্ত আকলিমার বাবার বাড়ি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার সোনাখালী এলাকায়।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রীর কোনো সন্তান না থাকায় আকলিমা আক্তারকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন শাহীন। বিয়ের পর আকলিমা গার্মেন্টসে চাকরি শুরু করায় শিশু আশরাফুল জন্মের ৪০ দিন পর থেকেই প্রথম স্ত্রী নাসিমার কাছে বেশি সময় থাকত এবং নাসিমাই তার দেখাশোনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের পেটের সন্তান হয়েও আশরাফুল তাকে ‘মা’ না ডেকে সত্সমা নাসিমা আক্তারকে ‘মা’ ডাকত এবং আকলিমাকে ‘আন্টি’ বলত—এমন ক্ষোভ থেকেই আকলিমা কেক কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটিকে কুপিয়ে জখম করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে বড় বোন সিরজাতুনকেও ছুরিকাঘাত করে আহত করেন তিনি।
গুরুতর আহত অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা শিশু দুজনকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আশরাফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সিরজাতুনের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিজ মায়ের হাতে এমন নৃশংস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত শিশুর পিতা মো. শাহীন মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার দুনিয়া শেষ হয়ে গেছে! ৩০ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটা ছেলে দিয়েছিল। আমার কলিজার টুকরাকে ওরা শেষ করে দিল। ঘরে গিয়ে দেখি আমার ছেলেকে ছুরি দিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলা হয়েছে। আমার সোনার চাঁদকে ওরা মেরে ফেলেছে।”
এ বিষয়ে সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহীন জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত মা আকলিমা আক্তারকে আটক করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এসএস/আরএন