ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নজরুল নগর ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামে কানের সোনার দুল নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় এক গর্ভবতী নারীর ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই নারীর গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আরও চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বিকেলে নজরুল নগর ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামের আলমগীর বেপারীর বাড়িতে কানের সোনার দুল নিয়ে পার্শ্ববর্তী এলাকার আবদুল মাঝি ও আলমগীর বেপারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, আবদুল মাঝির স্ত্রী পান্না, ছেলে রাকিব ও হেলালসহ কয়েকজন মিলে আলমগীর বেপারীর স্ত্রী মাইনুর বেগম এবং তাঁর দুই মেয়ে বকুল ও জান্নাতকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। তাদের চিৎকার শুনে আলমগীর বেপারীর আরেক মেয়ে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা নাছিমা এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
নাছিমার পরিবারের অভিযোগ, রাকিব, তাঁর মা পান্না ও হেলাল নাছিমার পেটে ও পিঠে লাথি, কিল-ঘুষি মারেন। একপর্যায়ে নাছিমা অচেতন হয়ে পড়লে হামলাকারীরা সেখান থেকে চলে যান। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ ঘটনায় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে দুই পক্ষের আরও চারজন আহত হন। তাদেরও উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
নাছিমা ও তাঁর স্বামী বাচ্চুর অভিযোগ, নাছিমাকে প্রথমে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের পর তাঁর গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু হয়।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান জানান, মারধরের শিকার হয়ে নাছিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁর থ্রেটেনড অ্যাবরশন ধরা পড়ে এবং প্রসূতি বিভাগে চিকিৎসাধীন রাখা হয়। আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদনে ইনকমপ্লিট অ্যাবরশনের বিষয়টি ধরা পড়ায় তাঁর ডাইলেশন অ্যান্ড কিউরেটেজ (ডি অ্যান্ড সি) করা হয়েছে।
চিকিৎসক জানান, নাছিমার শারীরিক অবস্থা বর্তমানে গুরুতর। অন্য আহত চারজনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাকিব ও আবদুল মাঝির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যুর অভিযোগটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দুঃখজনক। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শিপুফরাজী/এফএস