কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নে চলাচলের রাস্তার জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে জামাল উদ্দিন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়িয়াখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত জামাল উদ্দিন ওই এলাকার মুহাম্মদ ইসমাইলের ছেলে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পাহাড়িয়াখালী এলাকায় জামাল উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী দানু মিয়ার ছেলে ছাবের আহমদের চলাচলের রাস্তার জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে থানা ও আদালতে একাধিক মামলা-মোকদ্দমাও রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে ওই বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি শুরু হয়। একপর্যায়ে ধারালো দায়ের আঘাতে জামাল উদ্দিন গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতের ছোট ভাই ইলিয়াছ উদ্দিন সুমন অভিযোগ করেন, পৈতৃক সম্পত্তির সীমানা ও চলাচলের রাস্তা নিয়ে ছাবের আহমদের সঙ্গে তাদের কয়েক বছর ধরে বিরোধ চলছে। তার দাবি, ৩-৪ বছর আগে প্রভাব খাটিয়ে তাদের বাড়ির চলাচলের রাস্তায় বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণ করা হয়। বৃহস্পতিবারও রাস্তার আরও কিছু অংশে বাউন্ডারি নির্মাণ করা হয়েছে।
সুমন বলেন, মামলার কারণে পরিবারের সদস্যরা চকরিয়া আদালতে ছিলেন। এ সময় বাড়িতে শুধু তাদের বৃদ্ধ মা-বাবা ছিলেন। তার বাবা মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানালে তারা বাড়িতে ফিরে আসেন। তাঁর অভিযোগ, এরপরও ছাবের আহমদ ও তার পক্ষের লোকজন রাস্তার জায়গায় বাউন্ডারি নির্মাণ অব্যাহত রাখেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকালে বড় ভাই জামাল উদ্দিনসহ তারা বাউন্ডারি নির্মাণের স্থান দেখতে গেলে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এ সময় ছাবের আহমদ, তার ছেলে রাজিব, স্ত্রী বুলু আরাসহ আরও ২-৩ জন এতে অংশ নেন বলে দাবি করেন তিনি।
সুমনের দাবি, হামলার একপর্যায়ে ধারালো দা দিয়ে জামাল উদ্দিনকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। তিনি বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তাদের পরিবার ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছে। বর্তমানে প্রতিপক্ষ তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
প্রত্যক্ষদর্শী টমটমচালক বাবুল জানান, সকালে গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তিনি জামাল উদ্দিনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাজিম উদ্দিন/এফএস