ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে বাঞ্ছারামপুর ফেরিঘাট পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের ১৩৫টি স্থানে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। এ পথ পাড়ি দিতে ভোগান্তির যেন শেষ নেই। কোথাও সরু সড়ক, কোথাও খানাখন্দ, কোথাও ভাঙাচোরা অংশ, আবার কোথাও একের পর এক বাঁক। অনেক জায়গায় পাশাপাশি দুটি যানবাহন চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিদিন তিন হাজারের বেশি যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
দুই উপজেলার অন্তত ২০ থেকে ৩০টি গ্রামের মানুষ নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করেন। এ পথ ধরে বাঞ্ছারামপুরের কড়ইকান্দি ফেরিঘাটে পৌঁছে নদী পার হয়ে আড়াইহাজার হয়ে রাজধানী ঢাকাসহ নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের সংকীর্ণতা, অসংখ্য বাঁক ও ফেরিঘাটে অপেক্ষা—এই তিন কারণে এ অঞ্চলের মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ঢাকামুখী যাত্রায় সময়ের হিসাবও অনেক সময় মেলে না। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ আঞ্চলিক যোগাযোগপথটি এখন অনেকের কাছে দুর্ভোগের আরেক নাম।
দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে অবশেষে বড় একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল একনেক সভায় প্রায় ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান বাঁকগুলো সরলীকরণ করা হবে। এর ফলে বর্তমানে প্রায় ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নতুন অ্যালাইনমেন্ট ও বাঁক সরলীকরণের মাধ্যমে কমে প্রায় সাড়ে ৩২ কিলোমিটারে নেমে আসবে। অর্থাৎ সড়কের দৈর্ঘ্য কমার পাশাপাশি যাত্রাপথও হবে অনেক দ্রুত ও নিরাপদ।
সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা মেঘনার ওপর প্রস্তাবিত কড়ইকান্দি-বিশনন্দী সেতু। প্রায় ৩ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সেতু নির্মিত হলে ফেরিনির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী বলেন, ভুলতা থেকে বাঞ্ছারামপুর হয়ে নবীনগর সড়কের প্রকল্পটি মোট পাঁচটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি প্যাকেজের ওয়ার্ক অর্ডার ইতোমধ্যে হয়েছে। আরেকটি প্যাকেজের সিএস প্রস্তুত হয়ে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
এদিকে আড়াইহাজার, বিশনন্দী, বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর সড়কের দুরবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু সড়কের সংস্কার নয়—প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন এবং মেঘনার ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের উদ্যোগকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এমএস/আরএন