মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চোরাই মোটরসাইকেলসহ মিল্টন সরকার (৪৯) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, তিনি একটি সংঘবদ্ধ মোটরসাইকেল চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ও অন্যতম হোতা। তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি চুরি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গল-হবিগঞ্জ মহাসড়কের হবিগঞ্জ রোড এলাকায় নুর ফুডস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে ডিবির চেকপোস্টে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন নীল-কালো রঙের ইয়ামাহা ১৫৫ সিসির একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। পুলিশের হিসাবে, মোটরসাইকেলটির আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চেকপোস্টে মোটরসাইকেলটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে চালক সেটি ঘুরিয়ে বিপরীত দিকে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ডিবির এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ আজিজুল গাফফার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তাঁকে আটক করেন।
আটকের পর মোটরসাইকেলটির বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাইলে মিল্টন সরকার কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তাঁর কথাবার্তায় সন্দেহ হলে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে রাত ৪টা ১৫ মিনিটে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।
ডিবি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, মিল্টন সরকার দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল চুরি করতেন। পরে চুরি করা মোটরসাইকেল অজ্ঞাতনামা চোরাকারবারীদের কাছে বিক্রি করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নাম ব্যবহার করতেন। কখনো মিল্টন কুমার সাহা, কখনো মিল্টন সরকার, আবার কখনো মো. সোহেল নামে নিজের পরিচয় দিতেন।
মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য জানান, ‘মিল্টন সরকারের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে ২১টি, মৌলভীবাজারে পাঁচটি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন থানায় মোট ২৮টি চুরি মামলা রয়েছে। এসব মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।’
এর আগে চলতি বছরের ২ জানুয়ারিও মিল্টন সরকারকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছিল মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি চোরাই মোটরসাইকেল এবং মোটরসাইকেল চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এসএস/আরএন