সিরাজগঞ্জের চৌহালী ও সলঙ্গা থানায় দায়ের করা পৃথক তিনটি মাদক মামলায় পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় দেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুজ্জোহা শাহানশাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চর ছলিমাবাদ সরকারপাড়া গ্রামের নুরুল হক সরকারের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন সরকার, রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার গঞ্জেশীবপুর গ্রামের মাজেদ আলীর ছেলে আব্দুল নয়ন, ফরিদপুর গ্রামের ময়েজ উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ, কুষ্টিয়া জেলার মিরপুর থানার পুরাতন আজমপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে মানিকুর রহমান মানিক এবং একই গ্রামের মৃত আশরাফ হোসেনের ছেলে মো. আশিক।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট সিরাজগঞ্জ র্যাব-১২-এর সদস্যরা হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের রামারচর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি চালান। রাত ৮টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আমবোঝাই একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে ৫৫০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ আব্দুল নয়ন ও মামুনুর রশিদকে আটক করেন র্যাব সদস্যরা।
অন্যদিকে, ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালায় র্যাব। রাত ১টার দিকে মেহেরপুর থেকে ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৭ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ মানিকুর রহমান মানিক ও মো. আশিককে আটক করা হয়।
এদিকে, ২০১১ সালের ২৭ নভেম্বর সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার চর ছলিমাবাদ সরকারপাড়া গ্রামে তোফাজ্জল হোসেন সরকারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২৯ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিলসহ তাঁকে আটক করে পুলিশ।
পরে তিনটি মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ শেষে বৃহস্পতিবার আদালত পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।