ENGLISH EPAPER 📍 ঢাকা 📅 রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ তথ্য অধিদফতর নিবন্ধন নম্বর ০৬
শিরোনাম
Advertisement
বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস
প্রশিক্ষিত একটি হাতই হতে পারে জীবন বাঁচানোর প্রথম ভরসা
✎ অবজারভার অনলাইন ডেস্ক
⏲ প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ এএম
সংগৃহীত ছবি
X
Advertisement

সংগৃহীত ছবি

জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসক বা অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগের কয়েকটি মিনিটই কখনো হয়ে উঠতে পারে জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান। দুর্ঘটনা, আকস্মিক অসুস্থতা কিংবা আঘাতের পর সঠিক সময়ে দেওয়া প্রাথমিক চিকিৎসা আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থার অবনতি ঠেকাতে এবং জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শুধু স্বাস্থ্যকর্মী নয়, সবার জন্যই প্রাথমিক চিকিৎসার মৌলিক জ্ঞান থাকা জরুরি।

প্রতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় শনিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস (World First Aid Day)। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করাই এ দিবসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর ফেডারেশন (IFRC) প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় শনিবার দিবসটি পালনের উদ্যোগ নেয়।

প্রাথমিক চিকিৎসা এমন একটি জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা, যা দুর্ঘটনা, আকস্মিক অসুস্থতা বা আঘাতের পর পেশাদার চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত একজন আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থার অবনতি ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। IFRC-ও প্রাথমিক চিকিৎসাকে সবার জন্য শেখার সুযোগ তৈরি করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

২০২৬ সালের বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবস

IFRC-এর ২০২৬ সালের প্রচারণায় অভিবাসন ও চলমান মানুষের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক চিকিৎসাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, চলার পথে থাকা মানুষদের জন্য জরুরি মুহূর্তে আশপাশে এমন কেউ থাকা, যিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে জানেন, জীবন-মৃত্যুর ব্যবধান তৈরি করতে পারে।

যদিও প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন শুধু ভ্রমণ বা অভিবাসনের সময় নয়। বাড়ি, কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক কিংবা জনসমাগম- যে কোনো জায়গায় হঠাৎ দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ঘটনা ঘটতে পারে। তাই মৌলিক প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান সবার থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রাথমিক চিকিৎসা কী?

কোনো ব্যক্তি হঠাৎ আহত বা অসুস্থ হলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক বা অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা এবং অবস্থার অবনতি ঠেকাতে যে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হয়, সেটিই সাধারণভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা।

এর মধ্যে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, ক্ষত ঢেকে দেওয়া, পোড়ার ক্ষেত্রে উপযুক্ত প্রাথমিক ব্যবস্থা, অচেতন ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি সেবা ডাকার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রশিক্ষিত ব্যক্তির মাধ্যমে সিপিআর বা অন্যান্য জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপও প্রয়োজন হতে পারে।

তবে গুরুতর আঘাত বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা কখনোই পেশাদার চিকিৎসার বিকল্প নয়। বরং এটি চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার আগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকু নিরাপদে পার করতে সাহায্য করে।

কেন প্রাথমিক চিকিৎসা শেখা জরুরি?

১. জীবন বাঁচাতে পারে

জরুরি অবস্থায় প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসা সহায়তা আসতে সময় লাগলে প্রশিক্ষিত ব্যক্তি পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারেন। বিশেষ করে জীবন-হুমকিপূর্ণ অবস্থায় দ্রুত জরুরি সেবা ডাকা এবং উপযুক্ত প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

২. আঘাতের জটিলতা কমাতে সাহায্য করে

প্রাথমিক চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো আঘাত বা অসুস্থতার অবস্থা যাতে আরও খারাপ না হয় তা নিশ্চিত করা। দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ছোটখাটো আঘাতের জটিলতা কমানো সম্ভব হতে পারে।

৩. শিশুদের জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা করা যায়

শিশুরা খেলাধুলা বা আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে কৌতূহলের কারণে নানা ধরনের দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে পারে। কাটা-ছেঁড়া, পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়া বা হঠাৎ অসুস্থতার মতো ঘটনায় অভিভাবক ও তত্ত্বাবধায়কদের মৌলিক প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান থাকলে দ্রুত উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়।

৪. জরুরি সেবাদানকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া যায়

দুর্ঘটনার সময় কী ঘটেছে, কখন ঘটেছে এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়েছে- এসব তথ্য চিকিৎসক বা জরুরি সেবাদানকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তি এসব তথ্য সঠিকভাবে জানাতে পারলে পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সহায়তা হয়।

৫. সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে পারে

আঘাতের পর দ্রুত যথাযথ প্রাথমিক সহায়তা পাওয়া গেলে কিছু ক্ষেত্রে জটিলতা কমানো সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে রক্তপাত, পোড়া বা অন্যান্য আঘাতের ক্ষেত্রে ভুল পদক্ষেপের পরিবর্তে প্রশিক্ষণভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

৬. অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমাতে পারে

ছোটখাটো দুর্ঘটনাকে অবহেলা করলে তা কখনো কখনো বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসার সঠিক জ্ঞান থাকলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

৭. সচেতন ও প্রস্তুত সমাজ গড়ে তোলে

প্রাথমিক চিকিৎসা শুধু ব্যক্তিগত দক্ষতা নয়; এটি একটি সামাজিক সক্ষমতাও। একটি সমাজের বেশি মানুষ যদি জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে নিরাপদে সহায়তা করতে হয় তা জানেন, তাহলে দুর্ঘটনা বা দুর্যোগের সময় পারস্পরিক সহযোগিতার সক্ষমতা বাড়ে। IFRC-ও প্রাথমিক চিকিৎসা শিক্ষাকে সহজলভ্য করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

প্রাথমিক চিকিৎসায় কী কী জানা প্রয়োজন?

প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণে সাধারণত জরুরি পরিস্থিতি শনাক্ত করা, নিরাপদে সহায়তা করা, জরুরি সেবা ডাকা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ নেওয়ার মতো বিষয় শেখানো হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ, ক্ষত পরিচর্যা, পোড়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক ব্যবস্থা, শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত জরুরি অবস্থা এবং পুনরুত্থানমূলক সহায়তার মতো বিষয়ও প্রশিক্ষণের অংশ হতে পারে।

তবে প্রশিক্ষণ ছাড়া গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে অনুমানভিত্তিক চিকিৎসা বা ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত নয়। ভুল পদ্ধতি কখনো কখনো ক্ষতি বাড়াতে পারে। তাই সম্ভব হলে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

সবার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসার জ্ঞান

প্রাথমিক চিকিৎসা শেখার জন্য চিকিৎসক হওয়া জরুরি নয়। IFRC-এর মতে, প্রাথমিক চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ এবং এর লক্ষ্য হলো মানুষকে জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা দেওয়া।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট নেটওয়ার্কের বিভিন্ন সংগঠন প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। IFRC-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে জাতীয় রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিগুলোর মাধ্যমে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষণ পেয়েছেন।

দুর্ঘটনা কখন ঘটবে তা আগে থেকে বলা যায় না। কিন্তু জরুরি মুহূর্তে কীভাবে নিরাপদে সাহায্য করতে হবে- সে জ্ঞান আগে থেকেই অর্জন করা সম্ভব। একটি প্রশিক্ষিত হাত কখনো কখনো চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত একজন মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তাই বিশ্ব প্রাথমিক চিকিৎসা দিবসের মূল বার্তা শুধু একটি দিবস পালন নয়; বরং জীবন রক্ষাকারী মৌলিক দক্ষতা শেখা, অন্যকে শেখানো এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীলভাবে পাশে দাঁড়ানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

এসএ


Advertisement
Loading...
Loading...
আরো দেখুন
সম্পাদক: ইকবাল সোবহান চৌধুরী
অবজারভার লিমিটেডের পক্ষে সম্পাদক কর্তৃক গ্লোব প্রিন্টার্স, ২৪/এ, নিউ ইস্কাটন রোড, রমনা, ঢাকা থেকে প্রকাশিত।
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়:আজিজ ভবন (৩য় তলা), ৯৩, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা (সি/এ), ঢাকা-১০০০।

ফোন: পিএবিএক্স- ৪১০৫৩০০১-০৬; বিজ্ঞাপন: ৪১০৫৩০১২; ০১৭৯৩৩১৭৮২৯, ০১৫৫০৭০৭২৯১, ই-মেইল: [email protected], ‍[email protected] অনলাইন: ৪১০৫৩০১৪; ০১৫৫০৭০৭২৯৭ ই-মেইল: [email protected] ০১৫৫০৭০৭২৯৬
🔝
Advertisement